ব্রাত্য রাইসু—চেনাদের মাঝে অচেনা মানুষ

আড্ডার মধ্যে দশজন মানুষ থাকলেও রাইসু ভাই যদি কোনো কথা বলতেন তার দিকে আকৃষ্ট না হয়ে কারও উপায় ছিল না।

রাইসু ভাইয়ের সঙ্গে আমার মিলের চে অমিলই বেশি। রাইসু ভাই অতি উঁচু চিন্তার মানুষ, সেদিক থেকে আমার চিন্তাচেতনা একেবারে গৌণ। তিনি অতি সুদর্শন, আমি কুৎসিত কিম্ভুতকিমাকার। রাইসু ভাই সুন্দর করে নিজের মতো করে গুছিয়ে কথা বলতে পারেন, আর আমি গেঁয়ো ভূত, কথাকে কোনোভাবে শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করতে পারি না। অনেকের লেখায় দেখতে পাই, তিনি একাধারে কবি, দার্শনিক, ঔপন্যাসিক, চিত্রকর, প্রকাশক, ভাঁড় এবং আরও নানা বিশেষণ। রাইসু ভাই নিজেও এসব কথা বলে থাকেন। দুর্ভাগ্য হলেও সত্য আমি তার কোনোটার পদবাচ্যে পড়ি না। যে কারণে তাকে নিয়ে লেখা আমার জন্য একটু কষ্টসাধ্য তো বটেই।

তারপরেও আমি এবার দুজনের মধ্যে একটা মিল খুঁজে পেলাম। তিনি পঞ্চাশে পা দিয়েছেন, আমিও একই জায়গায় পা রাখলাম। আমার জন্ম উনিশ নভেম্বর, তিনিও একই তারিখে ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছেন। সুতরাং ঈশ্বর দুজনকে একই তারিখে ধরাধামে পাঠালেও তিনি যেভাবে আকাশ ছুঁয়ে চলেছেন সেদিকে চোখ রাখা আমার পক্ষে এক রকম দুঃসাধ্য। কারণ যোগ্যতা বলে একটা জিনিস তো থাকা চাই, সেটি অর্জন করতে পারি নি বলেই হয়তো আমার এ দশা।

নূরুল আনোয়ার

কারও সঙ্গে আমার সুন্দর সম্পর্ক বেশিদিন থাকে না। রাইসু ভাইয়ের সঙ্গেও আমার সম্পর্কটি ব্যারোমিটারের মতো ওঠানামা করে। তবে মন্দের ভালো তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কখনও একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায় নি। সেটি বোধকরি রাইসু ভাইয়ের কল্যাণে আবার জোড়া লাগে।

এবারের জন্মদিনে রাইসু ভাই একটি ম্যাসেজ পাঠিয়ে আমাকে বললেন, তাকে মূল্যায়ন করে যেন একটা লেখা লিখি। এমনকি স্মৃতিচারণও হতে পারে সেটি। ম্যাসেজটি পড়ে আমি অনেকক্ষণ থ হয়ে বসে রইলাম। একটুখানি অবাকও হয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর ব্যাপারটিকে আমি সহজভাবে নেয়ার চেষ্টা করলাম। যে কাজটি মানুষ মৃত্যুর পরে করে সে কাজটি রাইসু ভাই জীবদ্দশায় সেরে ফেলতে চাইছেন, কেন!

আমার কাছে রাইসু ভাইয়ের আবদারটা একটুখানি পাগলাটে মনে হলেও তার একটা বাস্তব দিক খুঁজে পেয়েছিলাম। মানুষ মরণশীল। আমাদের সকলকে মরণের স্বাদ নিতে হবে। মরণের পরে কী হবে না হবে আমরা কেউ কিছু জানি না। সুতরাং আমি কী করলাম সেটি জীবদ্দশায় শুনে যাওয়ার মধ্যে আলাদা একটি তৃপ্তি থাকা স্বাভাবিক। সে তৃপ্তিটি সকলে পেতে চায়, রাইসু ভাইও তার ব্যতিক্রম হবেন কেন! সেদিক থেকে রাইসু ভাইয়ের উদ্যোগকে আমার কাছে মনে হয়েছিল এটি একটি নির্লজ্জ সাহসী পদক্ষেপ। নিজের ঢোল নিজে পেটাব, কার বাপের সাধ্য বাধা দেয়!

মনে হয় দীর্ঘ ভূমিকা করে ফেললাম। আসল কথায় আসি।

রাইসু ভাইয়ের প্রথম দেখা মেলে খুব সম্ভব বিরানব্বই সালের দিকে আহমদ ছফার বাংলামটরের ডেরায়।

অবাক করা এক তরুণ ব্রাত্য রাইসু।

ভাঙাচোরা একখানা শরীর, গায়ে আগোছাল জামাকাপড়, পায়ে দুখানা চপ্পল। পায়ে ধুলোবালির আস্তরণ। মাথায় আউলা ঝাউলা লম্বা চুল। এক কথায় পরিপাটি একজন তরুণ বলতে যা বোঝায় রাইসু ভাই ওরকম কিছু ছিলেন না। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, আমি রাইসু ভাইকে একজন হিরোইঞ্চি ছাড়া বিশেষ কিছু মনে করি নি।

আমার আরও একটি জিনিস মনে হয়েছে তিনি একজন উঁচু মাপের আঁতেল। আরও একটা জিনিস চোখে পড়ার মতো ছিল তিনি শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতেন না। আঞ্চলিক ভাষার মিশেল দিয়ে তখন থেকে তিনি একটা জগাখিচুড়ি ভাষা ব্যবহার করতেন। তখন আমার মনে হয়েছিল, তিনি সত্যি সত্যি একজন স্ট্যান্টবাজ মানুষ। আমার মনে হয়েছিল, তিনি হয়তো প্রফেসর আবদুর রাজ্জাকের মতো একটি ভাষা ব্যবহার করে নিজেকে স্বতন্ত্রভাবে দাঁড় করাতে চাইছেন। সব মিলিয়ে তাকে পছন্দ করা যায় এমন কিছু আমি খুঁজে পাই নি। তিনি আমার কাছে অদ্ভুত প্রকৃতির একজন তরুণ ছিলেন।

তিনি যে একজন স্বাভাবিক প্রকৃতির মানুষ, সেটি তার চেনাজানা মানুষ ছাড়া বাইরের অন্যসব মানুষের কাছে একেবারে বেখাপ্পা।

কিন্তু এতসব সত্ত্বেও রাইসু ভাইকে আমার ভালো লেগে গিয়েছিল। ভালো লেগে গিয়েছিল দুটি কারণে। তিনি যখন ভরাট কণ্ঠে কথা বলতেন তখন বেশ লাগত। তার হাসিখুশি মুখ থেকে প্রতিটি শব্দ যেন খণ্ড খণ্ড হয়ে ঝরত। মজার ব্যাপার হল তার হাসির মধ্যে কোনো কপটতা ছিল না। আরেকটি বিষয় ছিল, তিনি খুবই চঞ্চল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তাকে আমি কখনও স্থির হয়ে এক জায়গায় বসে থাকতে দেখি নি। ইনি হলেন ব্রাত্য রাইসু, আমাদের রাইসু ভাই।

১৯৯৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফরকালে আহমদ ছফা, সঙ্গে ব্রাত্য রাইসু। ছবি. ইকবাল খান চৌধুরী

রাইসু ভাই কখনও আমাদের বাসায় একা যেতেন না। তার সঙ্গে আরও অনেকে থাকতেন। যেতেন সাজ্জাদ শরিফ, রাজু আলাউদ্দিন, আশীষ খন্দকার আরও একজন ছিলেন নাম মনে করতে পারছি না। [শাহরীয়ার রাসেল—ব্রারা] তিনি ‘পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গপুরাণ’ উপন্যাসের প্রচ্ছদ তৈরি করে দিয়েছিলেন। তারা ছফা চাচার সঙ্গে আড্ডা দিতেন। আড্ডার মধ্যমণি ছিলেন স্বয়ং ছফা চাচা।

সেই আড্ডায় আমার কখনও থাকা হত না। তবে তাদের কথাগুলো আমার কানে বাজত। বিশেষ করে রাইসু ভাইয়ের হাসির শব্দ অনেকদূর পর্যন্ত পৌঁছে যেত।

তার উপস্থিতি মানে এক প্রাণবন্ত আড্ডা। তিনি আর যাই করুন গুরুগম্ভীর কোনো আলোচনা তাকে দিয়ে সম্ভব ছিল না। তার মুখ দিয়ে যা আসত তিনি তা নির্দ্বিধায় বলে দিতেন। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি এমনকি ব্যক্তিগত বিষয় যৌনতা থেকে শুরু করে প্রেম কোনো কিছুই রাইসু ভাইয়ের আলোচনা থেকে বাদ পড়ত না। অনেক হালকা কথাও তাদের আড্ডায় এসে যেত।

কেন বলতে পারব না, এসব হাঁটুর বয়সের ছেলেদের সঙ্গে ছফা চাচা কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। আড্ডার মধ্যে দশজন মানুষ থাকলেও রাইসু ভাই যদি কোনো কথা বলতেন তার দিকে আকৃষ্ট না হয়ে কারও উপায় ছিল না। এটি খুব সম্ভব তার কথার ধরন এবং বাচনভঙ্গির কারণে হয়ে থাকতে পারে।

ছফা চাচা আমাকে তাদের আড্ডা থেকে সরিয়ে রাখতেন। তিনি মনে করতেন আমি তার দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছি। আমি যাতে তার দ্বারা প্রভাবিত না হই সে কারণে আমাকে সরিয়ে রাখা। তারপরেও আমাকে মাঝে মাঝে তাদের ওখানে যেতে হত। ঘরে ইদ্রিস না থাকলে আমি নিজেই তাদের চা করে দিতাম। এই চা দিতে গিয়ে তাদের সঙ্গে আমি যতটুকু সময় থাকতে পারতাম।

ছফা চাচার সঙ্গে থাকতে গিয়ে কতজনকে যে চা বানিয়ে খাইয়েছি ভাবতেই অবাক লাগে। এ চা পরিবেশন নিয়ে অনেক ঘটনা রয়েছে। একটি ঘটনা খুব করে মনে পড়ে। একদিন আমাদের বাড়িতে এক ভদ্রলোক এলেন। ইদ্রিস গেছে বাজারে।

ছফা চাচা বললেন, বেটা, চা দাও।

চুলার ওপর গরম পানির কেটলি সবসময় বসানো থাকত। তাই চা বানাতে আমাদের বেশি সময় নিত না। আমি দেরি না করে ট্রেতে করে চা নিয়ে তাদের সামনে রাখলাম। কিন্তু ভদ্রলোক আমার চা পরিবেশনকে সহজে মেনে নিতে পারলেন না। তিনি বলে বসলেন, এই ছেলে, ছফা ভাই কি তোমাকে বেতন কম দেন? খালি চা কেন?

কথাটা শুনে আমি একটুখানি ধাক্কা খেলাম। আমি যখন তার কথার জবাব দিতে গেলাম ছফা চাচা আমাকে হাতের ইশারায় সরে যেতে বললেন।

আমি যখন সরে আসছিলাম ছফা চাচা ওই ভদ্রলোককে বললেন, আপনি জানেন, এ ছেলে আপনার চে’ অনেক বেশি যোগ্যতা রাখে? সে এমএ পাশ। সে একজন লেখকও। আমি তো ভয়ে ছিলাম সে আপনার মতো মানুষকে চা দেবে কিনা। আমরা চায়ের সঙ্গে কিছু খাই না। আপনি ইচ্ছে করলে খেতে পারেন, নইলে কিছু করার নেই।

ছফা চাচার কথায় ভদ্রলোক আমতা আমতা করতে থাকলেন। তার অবস্থা হয়েছিল কোনো রকমে চা’টা শেষ করতে পারলে বাঁচেন। তাই তিনি একথা সেকথা বলে চা আধা শেষ করে খুব তাড়াতাড়ি বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন। ভদ্রলোক যাওয়ার পর ছফা চাচা আমাকে ডেকে বললেন, বাপ, আমি তোমাকে বার বার বলি তুমি অন্য কোথাও গিয়ে আলাদা থাকো। আমার কাছে হাজার রকম মানুষ আসে। সব মানুষ এক রকম নয়। সম্মান নিয়ে বাঁচতে শেখ।

আমি বললাম, আমি কিছু মনে করি নি।

তিনি বললেন, আমি তো মনে করেছি।

আমি আর কথা বাড়ালাম না। যা হোক, এ চা বানানোয় আমি এক রকম অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম। সে অভিজ্ঞতা থেকে যদি আমি এখন একটি চায়ের দোকান দেই ভালোই চালাতে পারব। চায়ের পাশাপাশি হালকা খাবার দাবারও চলত রাইসু ভাইদের সেই আড্ডায়। কোনো কোনো সময় আড্ডাকে জমিয়ে তোলার জন্য অন্যধরনের পানীয়ও পরিবেশন করা হত। যাহোক, আড্ডা থেকে রাইসু ভাই মাঝে মাঝে আমার পড়ার ঘরে চলে আসতেন। তার সঙ্গে আমার নানা কথা হত। আমি লিখতে থাকলে তিনি চোখ বুলিয়ে নিতেন। লেখায় কোথাও বেখাপ্পা ঠেকলে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন। ভালোই লাগত। ভালো লাগত এ কারণে, তার মধ্যে কোনোরকম মিনমিনে স্বভাব ছিল না।

রাইসু ভাই ছফা চাচার অনেকগুলো সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। এ সাক্ষাৎকার গ্রহণে তিনি একা ছিলেন না। কখনও সাজ্জাদ শরিফ, কখনও রাজু আলাউদ্দিন, কখনও আশীষ খন্দকার। সাক্ষাৎকার গ্রহণে কোনো রকম আনুষ্ঠানিকতা থাকত না, পুরো ব্যাপারটি সংঘটিত হত একেবারে আড্ডার ছলে। অন্যদের কথাবার্তায় ভাবগাম্ভীর্য থাকলেও রাইসু ভাই তার একেবারে বিপরীত। তিনি একটা প্রসঙ্গ থেকে আরেকটা প্রসঙ্গ বলে ছফা চাচার কথার মোড় ঘুরিয়ে দিতেন। সাক্ষাৎকারে এমন কোনো নির্দিষ্ট বিষয় ছিল না যার বাইরে আর কোনো কথা বলা যাবে না। যে ব্রাত্য রাইসুকে আমি হেরোইঞ্চি হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম, পরে কথার গভীরতা দেখে আমিও মুগ্ধ হয়ে তার কথা শুনতাম।

সাক্ষাৎকার গ্রহণে সকলে তরুণ হলেও রাইসু ভাইয়ের তারুণ্য ছিল অন্যরকম। তিনি অন্য দশজন তরুণের মতো ছিলেন না। তিনি সাক্ষাৎকার দাতাকে খোঁচাতে পারতেন। ছফা চাচাও তাতে মজা পেতেন। আমার মনে হয় রাইসু ভাই না হলে হয়তো ছফা চাচার এতগুলো সাক্ষাৎকার নেয়া সম্ভব হতো না। এ সাক্ষাৎকারগুলো একরকম জনপ্রিয়তাও পেয়েছিল। পরে পরে আরও অনেকে সাক্ষাৎকার নিতে আসতেন।

ছফা চাচা সাক্ষাৎকার দিয়ে চলতেন। কিন্তু এ সাক্ষাৎকার দেয়া নিয়ে তিনি পরে পরে এক রকম অস্বস্তিবোধ করতেন। তিনি দেখতে পেতেন যারা সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতেন তাদের জানাশোনার গভীরতা খুব বেশি নয়। সবগুলো সাক্ষাৎকার যেন একটা জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে রাইসু ভাইয়ের প্রতি ছফা চাচা সহানুভূতিশীল ছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, এ ছেলেটা আমার বড় উপকার করেছে। সে সাক্ষাৎকারগুলো নিয়ে আমাকে সাধারণ পাঠকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

রাইসু ভাইকে ছফা চাচা রাইসু মণ্ডলী, রাইসু কোম্পানি বলে ডাকতেন। এ দুটি শব্দ তিনি কমল মজুমদারের কাছ থেকে ধার করেছিলেন। ছফা চাচা কাকদেরও কাক মণ্ডলী বলে ডাকতেন, আর সঙ্গে সঙ্গে কাকেরা ছুটে আসত।

রাইসু ভাইয়ের পড়ালেখা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না। তাই তিনি একদিন বলে বসলেন, রাইসু কোম্পানি, প্রাইভেটে এমএটা শেষ করো না কেন!

রাইসু ভাই বললেন, ছফা ভাই, এমএ পরীক্ষার জন্য সময় নষ্ট করার কি দরকার আছে? এমএ করে কী লাভ হবে, আমি তো বড় চাকরি করব না?

ছফা চাচা আর কোনো কথা বাড়ালেন না। রাইসু ভাইয়ের চম্পল নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন। বলেছিলেন, তুমি এক জোড়া জুতো কেন না কেন?

রাইসু ভাই হেসে বললেন, ছফা ভাই, অভ্যস্ত হয়ে গেছি। খারাপ তো লাগে না।

এবারও ছফা চাচা কোনো কথা বাড়ালেন না।

এ ধরনের অনেক কথা ছফা চাচা রাইসু ভাইকে বলতেন। কিন্তু ব্রাত্য রাইসু ব্রাত্যই।

ওই সময় শাহবাগের আজিজ মার্কেট চালু হয়েছিল। মার্কেটটি কোনো আদর্শ নিয়ে গড়ে উঠতে পারে নি। ওখান থেকে দোকান নিয়ে যে কেউ যে কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারত। কেউ বইয়ের দোকান, কেউ কাপড়ের দোকান, কেউ খাবারের দোকান, কেউ নাপিতের দোকান, কেউ কেউ অফিস হিসেবে মার্কেটটিকে ব্যবহার করতে আরম্ভ করল। রাইসু ভাইয়েরাও ওখানে একটি দোকান নিয়েছিলেন। খুব সম্ভব অ্যাড ফার্ম হিসেবে দোকানটি ব্যবহার করেছিলেন তারা। তিনি একা ছিলেন না। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন তরুণ ছিলেন। আমি মাঝে মাঝে গিয়ে তাদের সঙ্গ নিতাম। আমার মন্দ লাগত না। কিন্তু তারা ব্যবসাটি তেমন জমাতে পারলেন না।

বেশ কয়েক মাসের ঘর ভাড়া বাকি পড়ে গিয়েছিল তাদের। দোকানের মালিক তাদের বারবার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও তারা ভাড়া পরিশোধ করতে পারছিলেন না। ব্যাপারটি কীভাবে কীভাবে ছফা চাচার কানে আসে। তখন ছফা চাচাকে একটুখানি চিন্তিত মনে হয়েছিল। তিনি ভাবলেন, ভাড়াটা তিনি নিজের থেকে পরিশোধ করে দিবেন। অবাক করার মতো বিষয় ছিল ছফা চাচারও টাকা ছিল না। ছফা চাচার ব্যাপার ছিল সাগর পাড়ি দেয়া সম্ভব নয় জেনেও তিনি যেকোনো কাজ করতে সাহসী হতেন। খুব সম্ভব ব্যাপারটি রাইসু ভাইদেরও জানিয়েছিলেন। কিন্তু রাইসু ভাইয়েরা সেটি ছেড়ে দিতে পারলে বেঁচে যান। পরে ছফা চাচাই সে ঘরটি ভাড়া হিসেবে নিয়েছিলেন।

ভাড়া নেয়ার পর তিনি নানারকম পরিকল্পনা করতে থাকেন। আমাকে বললেন, তিনি কাপড়ের দোকান দেবেন। দোকান চালানোর জন্য তিনি গ্রাম থেকে আমার এক ভাইকে নিয়ে আসবেন। কখনও বললেন, বইয়ের দোকান দেবেন। শেষ পর্যন্ত কোনোটাই সম্ভব হয় নি। সে দোকানটি হয়ে গেল আড্ডার দোকান। গোটা দিন তিনি ওখানে পড়ে থাকতেন। এতে তিনি খুব খুশি। এ ঘরটি হয়ে গেল একটা খরচের দোকান। প্রতি মাসে তাকে ভাড়ার টাকা গুণতে হত। কিন্তু এ টাকা যোগাড় করা তার জন্য খুবই কষ্টের ছিল। মজার ব্যাপার হল রাইসু ভাইয়ের কল্যাণে দোকানটি পেয়েছেন বলে তার আনন্দের সীমা ছিল না। এজন্য তিনি রাইসু কোম্পানিকে মাঝে মাঝে স্মরণ করতেন।

ছফা চাচার শিশুসুলভ হাসিটি দেখলে মনে হত এর চে বড় প্রাপ্তি তার জীবনে আর কিছু ছিল না। সেটি ভাবার একটি কারণও ছিল। তখন তিনি বাংলা-জার্মান সম্প্রীতি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। যে কারণে মনটি তার বিশেষ ভালো ছিল না। তিনি এক রকম ঘরবন্দি হয়ে পড়েছিলেন। এ দোকানঘরটি তাকে যেন একটি নতুন প্রাণ দিয়েছিল।

ওসব কথা থাক। অন্বেষা নামে ছফা চাচার এক বন্ধুর মেয়ে আমাদের বাড়িতে এসেছিল। অন্বেষা খুবই সুন্দরী। রাইসু ভাই অন্বেষার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন। আমি কিন্তু অন্বেষার সঙ্গে বিশেষ কথা বলতাম না। আমি এক রকম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে গিয়েছিলাম। সে আমার থাকার খাটটি দখলে নিয়ে নিয়েছিল। আমাদের ব্যাচেলার বাড়িতে এ মেয়েটির কারণে আশেপাশের তরুণেরা আমাদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে থাকত। ছফা চাচা এটা নিয়ে খুব মজা করতেন। তিনি বলতেন, অন্তত মেয়েটির কারণে সকলে আমাদের বাড়ির দিকে তাকায়, এটাও কম কী!

এ অন্বেষাকে নিয়ে নানা ঘটনা। ছফা চাচা তো একবার আমাকে বলে বসলেন, অন্বেষার সঙ্গে আমার বিয়ে দেবেন। কিন্তু মুশকিল হল আমি এমএ শেষ করতে পারি নি। চাচা তার সঙ্গে আমাকে সহজ করার জন্য নানা জায়গায় পাঠাতেন। একদিন চাচা বললেন, বাথরুমে অন্বেষার কাপড় রয়েছে ওগুলো একটু ধুয়ে দাও। আমি পড়ে গেলাম মুশকিলে। আমি তাকে নাও করতে পারি না। ইদ্রিসকে বললাম, ইদ্রিস, এ যাত্রায় তুমি আমাকে রক্ষা করো। শেষ পর্যন্ত ইদ্রিসই সে যাত্রায় আমাকে উদ্ধার করেছিল।

বাংলামটরের ভাড়াবাসার ছাদে সহকারী ইদ্রিস আলীর সঙ্গে আহমদ ছফা; ছবি. সুশীল চন্দ্র সিংহ, ১৯৯৬

এ রকম নানা পাগলামি ছফা চাচা করে বসতেন। এ মেয়েকে ভালোবেসেছেন রাইসু ভাই। সময় পেলে তিনি আমাদের বাড়িতে চলে আসতেন। সুযোগ পেলেই তিনি অন্বেষার সঙ্গে কথা বলতেন। ওই সময় রাইসু ভাই আমাদের বাড়িতে বেশি বেশি আসতেন। কিন্তু অন্বেষা তাকে ভালোবাসত কিনা আমি জানি না। সেটি রাইসু ভাইই ভালো বলতে পারবেন। পরে অন্বেষা হঠাৎ আমাদের বাড়ি থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল। জানা গেল সে আরেকজন বিদেশি ছেলেকে ভালোবাসে। এসব নিয়ে ছফা চাচা পড়ে গেলেন বিপদে। তাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে অন্বেষাকে ছফা চাচা উদ্ধার করে তার বাবার হাতে তুলে দিতে পেরেছিলেন। এখানে রাইসু ভাইয়ের প্রেমের ইতি ঘটে। অবশ্য রাইসু ভাইয়ের মুখে শুনেছি ছফা চাচাও অন্বেষাকে ভালোবাসতেন। পুরো ব্যাপারটি ধোঁয়াশা একটি বিষয় ছিল।

ছফা চাচার সঙ্গে রাইসু ভাইয়ের পরিচয়টা হয়েছিল শাহবাগের বইয়ের দোকান পাঠক সমাবেশে। রাইসু ভাই পাঠক সমাবেশে বই দেখছিলেন। ওইদিন ভোরের কাগজ পত্রিকাটি বের হয়। তখন ছফা চাচা সাজ্জাদ শরিফকে বললেন, তোমাদের পত্রিকাটি ভালো হয় নি। শুধু ব্রাত্য রাইসু নামের একজনের ‘ইহা একটি উৎকৃষ্ট গরুর রচনা’ লেখাটি ভালো লেগেছে। কথাটি রাইসু ভাইয়ের কানে গিয়ে বাজে। কিন্তু তিনি যে আহমদ ছফা রাইসু ভাইয়ের জানা ছিল না। রাইসু ভাই বইয়ের দোকান থেকে বেরিয়ে এসে বললেন, লেখাটি আমিই লিখেছি। আমার নাম ব্রাত্য রাইসু।

ওইদিনই তাদের পরিচয়। ওইদিনই ছফা চাচা তাদের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাশের বাড়িটিতে নিয়ে গেলেন, যেখানে তিনি থাকতেন। এটা ছিল ছফা চাচার অফিস কাম বাসা। ওইদিন থেকে ছফা চাচার সঙ্গে রাইসু ভাইয়ের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। এ ঘটনার আমি সাক্ষী ছিলাম না, রাইসু ভাইই আমাকে ঘটনাটি বয়ান করেছিলেন।

রাইসু ভাইয়ের একটি বদনাম আমরা শুনতে পেতাম। তিনি যে কোনো অখাদ্য লেখাও পত্রিকায় ছেপে দিতেন। তিনি খুব কম লেখককে নিরাশ করতেন। এটা নাকি পত্রিকাওয়ালারা মেনে নিতে পারেন নি। এটা ছফা চাচা জানতেন। একদিন ছফা চাচা রাইসু ভাইকে বলে বসলেন, তুমি পত্রিকায় যা তা লেখা ছাপাও কেন?

রাইসু ভাই হাসতে হাসতে বললেন, ছফা ভাই, যা তা লেখা না ছাপলে ওরা লেখক হবে কীভাবে!

ছফা চাচা এ নিয়ে আর কোনো কথা বলেন নি। বোধকরি কথাটা তার মনে ধরেছিল। ছফা চাচাও তো লেখক বানানোর কারিগর ছিলেন। একটা কথা আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, রাইসু ভাইয়ের কাছে কোনো লেখা নিয়ে গেলে তিনি না করতেন না। সে লেখক নবীন নাকি প্রবীণ তা তিনি বিবেচনায় রাখতেন না। রাইসু ভাইয়ের এদিকটা আমার ভালো লাগত।

রাইসু ভাইয়ের ‘আকাশে কালিদাসের লগে মেগ দেখতেছি’ কবিতার বইটির জন্য ছফা চাচা নানা জায়গায় প্রকাশক খুঁজতে লেগে গিয়েছিলেন। তিনি খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি এবং স্টুডেন্ট ওয়েজকে অনুরোধ করেছিলেন বইটি ছাপার জন্য। কিন্তু কবিতার বই বলে সেটি কেউ ছাপতে চান নি। এ ঘটনাটি রাইসু ভাই জানতেন কিনা আমি জানি না। কিন্তু ছফা চাচা যে বইটি ছাপার জন্য প্রকাশকের ধারে ধারে ঘুরেছেন তার যথেষ্ট প্রমাণ আমি হাজির করতে পারি।

দুই হাজার সালে আমার গল্পগ্রন্থ ‘নিরাপদ বসতি’ দীপনের জাগৃতি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। ওই বছর ‘প্রথম আলো’য় সাতজন তরুণ লেখকের বই আলোচনায় আসে। সেই সাতজন লেখকের মধ্যে আমি একজন ছিলাম। খুব সম্ভব আমার বইটি আলোচনায় আসার পেছনে রাইসু ভাইয়ের হাত ছিল। তিনি তখন প্রথম আলোর সাহিত্য পাতাটি দেখতেন।

জন্মদিনে (৩০ জুন) বাংলামটরের ভাড়াবাসার ছাদে ভ্রাতষ্পুত্র নূরুল আনোয়ারের সঙ্গে আহমদ ছফা; ছবি. সুশীল চন্দ্র সিংহ, ১৯৯৭

ছফা চাচা মারা যাওয়ার পর রাইসু ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্কটি আরও গভীর হয়। ওই সময় তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে আমার অনেকগুলো লেখা ছেপেছিলেন। তিনি বেশ উৎসাহ নিয়ে লেখাগুলো ছাপতেন। আমার লেখা ‘ছফামৃত’ বইটি তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ অনলাইন পত্রিকায় ছেপেছিলেন। ছেপেছেন আমার অনেকগুলো ভ্রমণকাহিনি।

পরে লেখাগুলো নিয়ে একটা বই করি। বইটি আমি তিনজনকে উৎসর্গ করেছিলাম। তার মধ্যে রাইসু ভাই একজন। কিন্তু রাইসু ভাই সেটি পছন্দ করতে পারলেন না। তার কথা হল আমি কেন অন্যদের সঙ্গে তাকে বই উৎসর্গ করলাম। তিনি এটাও জানালেন, ছফা চাচা সাজ্জাদ শরিফ এবং রাইসু ভাইকে একটি বই উৎসর্গ করতে চেয়েছিলেন। রাইসু ভাই তাতে বাধা দেন, এককভাবে না হলে যেন কোনো বই তাকে উৎসর্গ না করা হয়। ছফা চাচা নাকি তার নাম বাদ দিয়ে শুধু সাজ্জাদ শরিফের নামে বইটি উৎসর্গ করেছিলেন। আমি অন্যদের সঙ্গে তাকে বই উৎসর্গ করেছি, এটি নিয়ে যখন তিনি কথা তুললেন আমি এক রকম আহত হই। পরে একদিন ফোন করে রাইসু ভাই তার আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন। আমি তা নিয়ে আর কোনো কথা বাড়াই নি।

রাইসু ভাইয়ের আত্মঅহংকার খুব বেশি ছিল। তিনি কোনো রকম সমালোচনা সহ্য করতে পারতেন আমার মনে হয় নি। তিনি যা করেন সেটাই সত্য, সেটাই যেন সকলকে মানতে হবে। রাইসু ভাইয়ের অনেক কিছু আমি পছন্দ করি। কিন্তু তার যে সবকিছু মানতে হবে সেটা আমাকে দিয়ে সম্ভব নয়। তিনি ফেসবুকে নিয়মিত হাজির থেকে লিখে যাচ্ছেন। সে লেখার সবকিছুর সঙ্গে আমি একমত হতে পারি না। আবার তার কিছু কিছু বিষয় রয়েছে আমাকে ভাবায়। রাইসু ভাইয়ের যখন কেউ সমালোচনা করেন তখন তাকে তিনি আনফ্রেন্ড অথবা ব্লক করে দেন। এটাকে আমি ভালো চোখে দেখি না।

বছর দুয়েক আগে রাইসু ভাইয়ের সঙ্গে আমার কথা বনে নি বলে আমি তাকে নিজের থেকে আনফ্রেড করে দিয়েছিলাম। এ কারণে আনফ্রেন্ড করেছিলাম, আমি শুনে আসছিলাম তার পছন্দ না হলে তিনি আনফ্রেন্ড করে দেন। আমারও মনে হয়েছিল তিনি আমাকে আনফ্রেন্ড করতে পারেন। তাই সে সুযোগটি না দিয়ে আমি নিজের থেকে তাকে আনফ্রেন্ড করি। তারপরেও আমি তার লেখা পড়ি। সবসময় পড়া হয় সেটি বলা যাবে না।

রাইসু ভাইকে মূল্যায়ন করতে আমাকে আরও অপেক্ষা করতে হবে। কাউকে কাউকে দেখি তাকে সক্রেটিসের সঙ্গে তুলনা করা আরম্ভ করে দিয়েছে। এসব আমি তেল মারা ছাড়া বিশেষ কিছু মনে করি না। এটিও হতে পারে এসব লিখে রাইসু ভাইকে হেয় করা হচ্ছে। কেউ কেউ তাকে গুরু মেনে বসে আছেন। এসব আমাকে দিয়ে কোনোটাই সম্ভব নয়।

আমার পড়াশুনার দৌড় বেশি নয়। কারও লেখা ভালো লাগলে নিজে প্রীত হই। রাইসু ভাইয়ের কিছু লেখা আমার ভালো লাগে। আর এ ভালো লাগা থেকে এ লেখা। শেষে একটা কথা বলে লেখাটির ইতি টানব। রাইসু ভাই বলেছেন তার কোনো আদর্শ নেই। আমার মনে হয় এটা রাইসু ভাইয়ের মনের কথা নয়। ভালোমন্দ, চোরসাধু সকলেরই একটা আদর্শ থাকে। রাইসু ভাই যে এতসব করে যাচ্ছেন এসব তো আদর্শের বাইরে কিছু নয়। পাগলও আদর্শ মেনে অনর্গল কথা বলে। আশা করি আমরা আপনাকে একজন আদর্শবাদী মানুষ হিসেবে পাব।

Facebook Comments
More from নূরুল আনোয়ার

1 Comment

  • ব্রাত্য রাইসুরে নিয়া এই লেখাটা ভালো হইছে। প্রশংসা সমালোচনা দুইটাই ভালো লাগছে। ব্রাত্য রাইসুরে নিয়া ভাবি লেখমু। আবার কই লেখমু কেন তিনি কী আমারে চিনেন? আমারে গুরুত্ব দেন? যদি না দেন তাইলে তাঁরে নিয়া আমি লিখমু কেন? আবার কই লেখা উচিৎ তো। আমি তো তার থিকা অনেক কিছু পাইছি এইটা অস্বীকার করতে পারমু না। তবে নুরুল আনোয়ার হইয়া লেখা তো যাবে না। তাই লিখিওনাই। তবে নুরুল আনোয়ারের লেখায় একটা কমেন্ট করার ইচ্ছাটা পূরণ কইরা যাওয়া উচিৎ মনে হইলো।
    রাইসুর “আত্মঅহংকার” বিষয়টা আমার চোখে ঠাওর হয়নাই এখনো। হইতে পারে আমার লগে সামনে থেইকা দেখা হয়নাই কখনো বা ওঠাবসা করিনাই কখনো এর লাইগা সে আত্মঅহংকারী কিনা সেইটা দেখার বা বুঝার সুযোগ হয়নাই। রাইসু আত্মঅহংকারী হইলেও কিছু আয় যায়না, তাঁর অবদানের কাছে এইগুলা কিছু না (এইটা তৈল লেপন বলা যাবে? সমস্যা হইলো রাইসু তৈল লেপন বুঝতে পারে! কে তাঁরে তেল দিতেছে এইটা সে ধরতে পারে) । রাইসুর কবিতার মতো কিছু এখনো আমি ভালো লাগাইতে পারিনাই তাঁর অবদানের ভিতর থেইকা। আমি রাইসুর কবিতার বই কিন্যা পড়তে পারিনাই। অনলাইন থিকা, রাইসুর আইডি পেইজ, সামু ব্লগ যেথায় যা আছে সব খুঁইজা খুইঁজা রাইসুর কবিতা পড়ছি। এখনো পড়ি। “পন্ডিতে খায় নারিকেল ” আর “বরিশাল” আমি কয়েকশবার পড়ছি!
    রাইসু নবীনগো লেখা ছাপেন এইটার লগে কেন জানি আমি একমত না আমি! ফেসবুক থেইকা তাঁর চরিত্র আমার চোখে যা ধরা পরছে তাতে রাইসু নবীনগো লেখা ছাপেন ঠিকই তবে সেই নবীনরে আবার রাইসুর চেনাজানা বা তাঁর লগে পরিচয় আছে হইতে হবে এমন। মানে একপ্রকার পক্ষপাতিতা বলা যায়। এই পক্ষপাত আবার আদিখ্যেতায় ও চইলা যায়!
    আবার আমি এমন ও দেখছি, যাগো চিনেন জানেন না তাগো রাইসু তাগো গুরুত্বহীন ভাবে। মানে চেনাজানা ছাড়া পাঠকের ভালোবাসাটা সে নেয়ার যোগ্যতাটা আল্লার কাছ থিকা পায়নাই বা তাঁর ক্রিয়েট হয়নাই!

    নুরুল আনোয়ারের লেখা ভালো লাগছে। তবে মাঝে মাঝে মনে হইছে নুরুল আনোয়ার সাব খামখেয়ালি করতেছে বা রাইসুর উপর রাগ ঝাড়তেছে এইরকম কিছু!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *