অন্যরকম ব্রাত্য রাইসু

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের সাথে তার বাতচিৎ আমার খুব ভাল লাগত।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ব্রাত্য রাইসুর সাথে আমার সাক্ষাৎ পরিচয়। তার আগে তাকে পেয়েছি প্রথম আলো কিংবা যতদুর মনে পড়ে ভোরের কাগজের সাহিত্য পাতায়। বলা ভালো রাইসু যখন সাহিত্য পাতায় কাজ করেছে সেই পাতার প্রতি আমার আলাদা আকর্ষণ ছিল। সব কিছুতে বিতর্ক লাগিয়ে একটা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বের করার আলাদা কৌশল তার বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এটা এখানে বুড়োদের মধ্যে তো বটেই তরুণদের মধ্যেও খুব কম দেখি।

সাহিত্য পাতার বাইরে তাকে দেখে প্রথম দেখাতেই অন্যরকম লেগেছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের সাথে তার বাতচিৎ আমার খুব ভাল লাগত। অন্যরা, বড়-ছোট-শক্তিমান-দুর্বল যখন ভক্তিতে, ভালবাসায় স্যারের প্রতি গদ গদ তখন রাইসু স্যারের সাথে শক্তিমত্ত বাতচিৎ চালাতেন। স্যারকে দেখেছি রাইসুকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে কথা বলতে। স্যার যে গতিতে রাইসুর সাথে কথা বলতেন, রাইসু সমান গতি ও তালে তার প্রত্যুত্তর দিতেন।

শুভ কিবরিয়া

এই যে সমাজের প্রতিষ্ঠিত, শক্তিমানের প্রতি সমানে পাল্লা দিয়ে কথা বলা এটা আমাকে খুব টেনেছে। আমাদের এখানে অধিকাংশই প্রায় শক্তিমানদের সামনে ভক্তি আর পেছনে নিন্দাচর্চা করে। রাইসুকে আমার তার বিপরীত ধারার মনে হয়েছে।

তার তর্ক করার শক্তি এই সমাজে প্রচলিত চর্চার চাইতে আলাদা।

ফেসবুকে, সাহিত্য চর্চায়, ভাষার বিবৃতিতে ব্রাত্য রাইসু অন্যদের চাইতে ভিন্ন, এটাই আমার তার প্রতি আকর্ষণের কারণ। সমাজে যে কোনো বিষয়ে যখন বিতর্ক ওঠে, পক্ষে বা বিপক্ষে রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে, মানুষ অবস্থান নেয়। যে কোনো ঘটনার পক্ষ বা বিপক্ষের বাইরে দাঁড়িয়েও যে আলাদাভাবে চিন্তা করা যায়, এটা আমি রাইসুর লেখায়, কথায় দেখি। এই অবস্থানটা খুব টানে আমাকে। মনে হয় প্রচলিত ভাবনার বাইরে তার একটা চিন্তার শক্তি আছে।

বই লেখা, বই বিক্রি করার ব্যাপারেও ফেসবুকে যে সব ইনোভেটিভ আইডিয়া ব্রাত্য রাইসু নিত্যনতুন বের করেন সেটাও একদম আলাদা।

চলনবলন, আচরণ , লেখা, বলা—সব জায়গায় তার একটা অন্যরকম শক্তিমান-সাহসী দৃষ্টিভঙ্গির বিচরণ আছে। সমাজের সকল ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে ব্রাত্য রাইসু যে তার মতো এখনো সচল-সক্রিয় আছেন, সেটাকে আমি তার শক্তি বলেই ভাবতে চাই।

এই বৈচিত্রময় শক্তিমত্তা সহ নিজের মতো করে, তার সৃষ্টিকর্ম নিয়ে, রাইসু বেঁচে থাকুন আরও অনেক বছর সেইটা আমি চাই। খুব করে চাই।

ব্রাত্য রাইসুর সাথে যখনই দেখা হয়েছে তখনই তাকে হাসতে দেখেছি। মলিন দেখি নি। এটাও আমাকে খুব টানে। এখানে অধিকাংশই মলিনতায় , বিষণ্নতায় ভোগে। রাইসুকে তার বাইরের মানুষ মনে হয়েছে।
পঞ্চাশে তাই ব্রাত্য রাইসুর জন্যে থাকছে অনন্ত ভালবাসা।

১৪ নভেম্বর ২০১৭

Facebook Comments
More from শুভ কিবরিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *