এটাই হয়ত রাইসু

বুদ্ধিজীবী বলি অথবা শিল্পী বা কবি যাই বলি এসব বুঝতে আমি আসলে কী বুঝি? আমার মতো করে এর একটি ব্যাখ্যা দিই—এটা আসলে চিন্তা ও জীবন-যাপনের একটা ধরন।

যিনি কোনো কপটতা না করে নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন। লিখতে পারেন, বলতে পারেন বা আঁকতে পারেন। যেখানে অন্য কোনো বিবেচনা বোধ কাজ করে না। যিনি প্রচলিত নীতি-নৈতিকতাকে প্রশ্ন তুলতে পারেন, বিরোধিতা করতে পারেন, অস্বীকার করতে পারেন। এবং নিজের জীবন-যাপনেও এর চর্চা করতে সাহস বা দুঃসাহস দেখাতে পারেন। নতুন ভাবনা বা চিন্তা জাগায় এমন মত বা ধারণা তুলে ধরতে পারেন।

এর মানে তার সব মতের সঙ্গে সবার একমত হওয়া নয়, তার দরকারও আসলে নেই। কাউকে নতুনভাবে চিন্তা করতে বা ভাবাতে পারলেই হয়।

এ কে এম জাকারিয়া

একজনের মধ্যে এসব ‘গুণ’ বা ‘দোষ’ হাজির আছে এমন লোকের দেখা আমাদের সমাজে খুব মিলে না। অথবা এমনও হতে পারে যে থাকলেও তারা আমার বা আমাদের অনেকের চোখের আড়ালে আছেন। রাইসু সেই বিরল মানুষ যার মধ্যে এই গুণ বা দোষ দুটোই হাজির আছে এবং একই সঙ্গে তিনি কঠিনভাবে দৃশ্যমান।

তিনি আমার বন্ধু। একই ক্লাসে না হলেও আমরা একই স্কুলে পড়েছি। বন্ধুত্ব বলতে যা বোঝায় তা হয়েছে স্কুলজীবনের পর, যখন তিনি ‘রাইসু’ হয়ে উঠেছেন। আমার জন্ম খিলগাঁওয়ে। রাইসুর বাড্ডায়। বাড্ডা, রামপুরা বা খিলগাঁও—এসব এলাকার লোকজন এবং তাদের জীবন-যাপনের মধ্যে সেই আমলে অনেক মিল ছিল। আমাদের দু জনের স্মৃতির মধ্যে মিলমিশের ব্যাপারটিও তাই খুবই স্বাভাবিক। খিলগাঁও সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের আমার শিক্ষকেরা তারও শিক্ষক ছিলেন। স্কুলের স্মৃতিগুলোও একই।

প্রায়ই শুনি রাইসুর সঙ্গে নানা লোকজনের বেশ ভাল ধরনের ঝগড়া-বিবাদ হয়। বন্ধু হিসেবে, সহকর্মী হিসেবে আমাদের সম্পর্কটা দীর্ঘ দিনের। চিন্তা বা মত নিয়ে আমাদের ফারাক তো আছেই, ব্যক্তিত্ব হিসেবেও আমরা অনেকটাই আলাদা। কিন্তু এরপরও আমাদের মধ্যে কেন কোনো দিন বিবাদ হল না তা আমার কাছে বিস্ময়ের।

রাইসুকে নিয়ে আমার একটা ভয় আছে, কী করবেন বা করবেন না সেই নিয়ত ঠিক করা বা তাতে তিনি স্থির থাকতে পারেন বলে মনে হয় না। নানা কিছু করতে গিয়ে তিনি না আবার খেই হারিয়ে ফেলেন! এটাই হয়ত রাইসু।

(কভারের ছবি. নগরকোট, নেপালে)

Facebook Comments

Leave a Reply