চেনা রাইসু, অচেনা রাইসু

১.
বিষয়টা এইভাবে কল্পনা করতে পারেন—ধরেন, আপনি ফেসবুকের কোনো একটা গ্রুপে লাইক দিয়া সেই গ্রুপে অ্যাকটিভ হইছেন। আপনার লক্ষ্য গ্রুপের সবার লগে মিল্লা কোনো নির্দিষ্ট একটা বিষয়ে অ্যাকটিভিজম চালাইবেন।

এখন গ্রুপে জয়েন দিয়া আপনি আবিষ্কার করতেছেন, সেই গ্রুপ, সেই গ্রুপের এ্যডমিন—গ্রুপের মেম্বার হিসাবে আপনাকে সব কিছুতে ডিকটেট করতে চাইতেছে। আপনার পুরা লাইফের কন্ট্রোল যেন অ্যাডমিন প্যানেলের হাতে। আর এই কন্ট্রোল মানে পুরাই “ফ্রম এ, টু জেড” কন্ট্রোল। আপনার লাইফের ‘টপ টু বটম’ সবকিছু এই কন্ট্রোলের আওতায়। গ্রুপের অ্যাডমিন আপনারে অনুমোদিত লিস্ট পাঠাইতেছেন—আপনি কী কী বই পড়তে পারবেন, কী কী পড়তে পারবেন না! কোন রঙের কাপড় পরবেন, কোন রঙের কাপড় পরতে পারবেন না—কোন মাইয়ার লগে পিরিত করতে পারবেন আর কার লগে পারবেন না—এমন কি আদৌ পিরিত করতে পারবেন কি’না! এক কথায় সেই গ্রুপের অথরিটির নির্দেশ/ ইচ্ছার বাইরে আপনি এক কদম পা’ও বাড়াইতে পারবেন না।

কী… শুইনা ডরাইছেন তো? ভাবতেছেন, এইটাও কী সম্ভব? সম্ভাবনা প্রচুর,  আজকের ফেসবুকের কিংবা অনলাইনের যারা অ্যাকটিভিস্ট, তাগোর অনেকের কল্পনার দৌড় হয়ত এতদূর পর্যন্ত নাও যাইতে পারে। তাদের অনেকের কাছেই এইটা অবিশ্বাস্য, অসম্ভব একটা ঘটনা বইলা ঠাওর হইতে পারে। অথচ ফ্যাক্টস হইলো—আমাদের দেশের কম্যুনিস্ট আন্দোলনের পুরানা দিনের খোঁজখবর যারা একটু রাখেন, তারা বিলক্ষণ জানেন—এই  জব্বর আঁটোসাটো ধরনের আর, কড়া সাংগঠনিক নির্দেশ মাইনা রাজনীতির চর্চা আমাদের দেশে মাত্র কয়েক দশক আগেও চালু ছিল।

 বিশ্বজিৎ মুনশি

কমিউনিস্ট সিপিবি নামে প্রকাশ্য কিংবা সর্বহারা নামের গোপন যত সংগঠন ছিল,  সেইটা সিরাজ সিকদার কিংবা এম এল যেই নামেরই হোক, সেই সব সংগঠনে—তাদের পার্টি সদস্যদের জীবন এইভাবেই কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করা হইত। পার্টি সদস্য হিসাবে, আপনার কী কী করনের এখতিয়ার আছে—অনেক ক্ষেত্রেই তার নির্দেশাবলী লিখিত ভাবে রাখা হইত। পার্টির নির্দেশের বাইরে এক চুল পরিমাণ যাওনের হিম্মত, কোনো দলীয় সদস্যের জন্য ছিল অসম্ভব।

তবে কম্যুনিস্টদের যারা গোপন তৎপরতার ধারায় পরিচালিত হইত, সেই সব রাজনীতির ক্ষেত্রে  পার্টির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়া আপনি যদি কোনো কার্যক্রম চালাইতে যাইতেন, মৃত্যুই হইত  আপনার একমাত্র পরিণতি। এই ধারার কম্যুনিস্ট রাজনীতি—দলের ভিতরে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধ মতের লগে ডিল করত, জানে খতম কইরা দিয়া। যে কারণে এই ধারার রাজনীতিকে কম্যুনিস্ট আন্দোলনের ‘খতমের লাইন’ বইলাও চিহ্নিত করা হইত।

২.
ব্রাত্য রাইসুর ৫০ বছর পুর্তি হইতে যাইতেছে…। সেই উপলক্ষে রাইসুরে নিয়া ভাল-মন্দ কিছু লিখতে গিয়া ভাবতেছিলাম—কয়েক দশক আগে জন্ম লইলে, সেই আমলের রেওয়াজ অনুযায়ী আমাদের রাইসু কখনও কম্যুনিস্ট আন্দোলনের গোপন রাজনৈতিক দলে যোগ দিতেন কিনা! ষাইটের দশকের সৃজনশীল কবি-সাহিত্যিকদের অনেকেই প্রকাশ্য বা গোপন রাজনৈতিক দলের রাজনীতির লগে সক্রিয় ভাবে যুক্ত হইতেন। কিংবা ধরা যাক, পশ্চিমবঙ্গের নকশাল আন্দোলন—সেইখানেও সংবেদনশীল তরুণদের একটা বড় অংশ যুক্ত ছিল।

রাইসুর বাসায়

সমসাময়িক কালে আমাদের রাইসু কবি হিসাবেও তুমুল জনপ্রিয়, অথচ তার সামগ্রিক পরিচয়, অবশ্যই শুধুমাত্র কবি হিসাবে সীমিত নয়। তার কবি পরিচয়ের বাইরেও অ্যাকটিভিস্ট, তরুণ উদ্যোগী হিসাবে এক উজ্জ্বল পরিচয় রইছে। ফলে আমি ভাবতেছিলাম—আমাদের কম্যুনিস্ট আন্দোলনের সিরাজ সিকদার কিংবা হুমায়ুন কবির—যারা ছিলেন কম্যুনিস্ট ঘরানার অ্যাকটিভিস্ট, একই লগে দুইজনাই কবি হিসাবেও ছিলেন যথেষ্ট খ্যাতিমান, তাদের লগে একই তালিকায় ব্রাত্য রাইসুর নামও যুক্ত হইতে পারত কিনা! এইটার সম্ভাবনা কতটুকু ছিল?

বলা বাহুল্য—আমি এইটার কোনো সম্ভাবনাই দেখি না। রাইসুকে আমি যতটুকু চিনি, আমি নিশ্চিত… রাইসু এবং সংগঠন, সেইটাও আবার আন্ডারগ্রাউন্ড মাওবাদী কঠোর নিয়ম কানুনের সংগঠন! এই দুইটা কখনও এক লগে যায় না। আরও পরিষ্কার ভাবে কওন যায়—কোন লক্ষ্যকে সামনে রাইখা জোট বান্ধা, যৌথভাবে কোনো কার্যক্রম হাতে নেওয়া—এইটা রাইসুর কাজের ভঙ্গি নয়। এমনকি কারও মতের লগে কারও একমত হইতেই হবে, রাইসুর কাছে এইটাও খুব জরুরি বিষয় নহে। বরং একমত হইলে হয়ত দেখা যাইত, রাইসু প্রথম থিকাই সেইখানে গরহাজির। বরং য্যান শত ফুল ফুটতে থাকুক, হাজারটা মতামত পাশাপাশি চলতে থাকুক এমন অনুমানের কিছু একটা হইল রাইসুর লাইন।

তবে বাস্তবে চূড়ান্ত অর্থে সেইটা কী দাঁড়াইত, সেই বিচার আলাদা। তবে খুব পরিষ্কার ভাবেই,  রাইসু  আসলে সজাগ থাকতে চায়—সমষ্টির ভিতর ব্যক্তির স্বর, য্যান হারায়া না যায়!

যারা আমার চাইতে আরও দীর্ঘ দিন থিকা রাইসুকে চিনেন, রাইসুর লগে আরও ঘনিষ্ঠ, তারা আমার এই কথার অর্থ আরও স্পষ্ট বুঝতে পারবেন বইলা আমার অনুমান। এই বছর রাইসু তার জীবনের ৫০ এর বুড়ি ছুঁইতে যাইতেছে… এইটারে একটা সুযোগ হিসাবে আমি নিছি।

এইখানে আপনাদের লগে শেয়ার করতে চাই, রাইসুকে নিয়া আমার কিছু পর্যবেক্ষণ। রাইসুকে আমরা কীভাবে চিনতে পারি? তার কাজকর্ম কী দিয়া ব্যাখা করা যায়? এক কথায় কইতে গেলে—রাইসুকে কীভাবে বুঝবেন? এইটা ঠিকঠাক বুঝার লাগি তৈয়ার হইছে য্যান আমার এই ম্যানুয়াল।

৩.
চিন্তা ভাবনা আর কাজের ধরনের দিক দিয়া রাইসুকে অনেকে বলতে পারেন তিনি হইলেন গিয়া পোস্ট মডার্ন। রাইসুর লাইফ স্টাইলের লগে আমি পোস্ট মডার্নিস্ট অ্যানার্কিস্টদের বিস্তর মিল খুঁইজা পাই।

এই অ্যানার্কিস্টদের একটা বৈশিষ্ট্য হইল—উনারা দল কিংবা সংগঠন করা, কোনো দলীয় নেতৃত্বের অধীনে থাকতে খুবই অপছন্দ করেন। এই বিষয়ে তাদের যুক্তি হইল, যে কোনো লিডারশিপ, অর্থাৎ  নেতৃত্বের ক্ষমতা তো পয়লা সুযোগেই একটা কর্তৃত্বসুলভ ক্ষমতায় পরিণত হয়া ঘাড়ের উপর উঠতে চাইবই। আর এই ক্ষমতা মানেই তা দানবীয়। ফলে তা সুযোগ পাইলেই দানব হিসাবে দলের বাকি সদস্য অথবা অসদস্যদের ঘাড়ের উপর চাইপা বসতে চাইব। তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে চাইব। সংগঠন নিয়া, আমাদের রাইসুর মতামতও প্রায় এই রকম, অ্যানার্কিস্টদের লাহান। রাইসু সংগঠন করতে চায় না, কাউকে নেতা বানাইতে চায় না। এই কথাটাই রাইসু তার নিজের ভাষায় বলে, আমি কোনো আইকন বানাইতে চাই না। রাইসু এই কথাগুলা কয় ইতিবাচক ভাব থিকাই। আসলে রাইসুর কাছে যে কোনো ধরনের শৃঙ্খলা, বান্ধা নিয়ম নীতি—একই সাথে তা আর এক পিঠ থেকে দেখলে, সেইটা তো একটা ফান্দে পড়ার মতনই বিষয়। ফলে রাইসু এইটা চায় না।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ক্লাবে রাইসুর লগে যে ফালতু আচরণ করা হইছিল, সেই প্রসঙ্গ নিয়া ফেসবুকে রাইসুর লগে কারো একটা কনভারসেশন আমি খেয়াল করতেছিলাম। সেই আলাপে রাইসুকে প্রশ্ন করা হইছিল—আপনি এই সব কালচারাল এলিটদের সঙ্গ কেন পরিত্যাগ করেন না? তাইতে রাইসু উত্তর দিছিল—সমাজে ক্ষমতা থাকলে তা থিকা নতুন নতুন এলিট পয়দা হইতেই থাকবে। ফলে জীবন থিকা এলিটদের পরিপূর্ণ পরিত্যাগ করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। আর পুরানা এলিট সব সময়ই নতুন এলিটদের চাইতে ভাল।

খেয়াল করলে দেখবেন, অন্ততঃ সংগঠনের প্রশ্নে এই অ্যানার্কিস্টদের লগে আমাদের পুরানা কম্যুনিস্টদের চিন্তার বিপুল বৈপরীত্য রইছে। একদল সংগঠন করতে চায় না, কোনো দল বান্ধার কামে না গিয়া, উনারা পাশাপাশি থাইকা কাজ করতে চান। আরেকদলের কাছে জীবন মানেই রাজনৈতিক জীবন, তাদের জীবন কাটে কথিত চূড়ান্ত দলীয় বশ্যতায়। এই বশ্যতা এমনই মাত্রার—যে তাদের জীবনে ব্যক্তিগত বইলা কিছু আর থাকে না। জীবনের যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ উনারা তুইলা দিছেন—তার দল, তার সংগঠনের হাতে।

এই দানব সুলভ ক্ষমতা এবং তার কর্তৃত্বপরায়ণতা প্রশ্নে, এই সব নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে অ্যানার্কিস্টদের এই আলট্রা স্পর্শকাতরতা, এত এত বিতৃষ্ণা দেইখা—আপনার মনে সন্দ জাগতেই পারে, এককালে এই পোস্ট মডার্নিস্ট অ্যানার্কিস্টগণ, ইনারাও কি সিরাজ সিকদারের সর্বহারা পার্টির সদস্য ছিলেন কিনা? যখন পার্টি নামক এক দানবীয় ক্ষমতার অধীনে ছিল, তাদের ব্যক্তিগত জীবন। যখন কোনো পার্টি সদস্যকে, স্রেফ নিজের পছন্দের বালিকারে বিয়া করতে চাওয়ার অপরাধে, পার্টির অন্য কমরেডদের হাতে শাস্তি হিসাবে খুন হয়া যাইতে হইছে?

৪.
পোস্ট মডার্নিস্টদের কাজের দর্শন, তারা কইতে চায় এইটা হইল—’যত মত তত পথ’ ঘরানা। তাদের কাছে ব্যক্তিতন্ত্রই (individualism) চূড়ান্ত বিষয়। তারা বিশ্বাস করে, একই কজের (cause) উদ্দেশ্যে পাঁচজন আলাদা আলাদা ভাবে কিন্তু পাশাপাশি কাজ করাটাই সঠিক পন্থা। কোনো অ্যাকটিভিজমের লাগি জোট বাইন্ধা, কাউরে নেতা মাননের জরুরত নাই। বরং যারেই নেতা বানাইবেন, দুইদিন পরেই সেই আপনার ঘাড়ে সিন্দাবাদের লাহান চাইপা বইব। তারা কইতে চায়—তোমার মত নিয়া তুমি থাকো, আমার মত নিয়া আমিও থাকি। পাশাপাশি যদি আমরা থাইকা যাই, তাইলে আমাদের কোন যৌথতার আর কোন জরুরত তো থাকে না। এত দল বান্ধার কাম কী?

বোঝার সুবিধার জন্য একটা উদাহরণ এইখানে লওয়া যাইতে পারে—ধরা যাক এইটা এরশাদের আমল, স্বৈরাচার খেদানির লাগি মুভমেন্ট চলতেছে। এই সব পরিস্থিতিতে পোস্ট মডার্নিস্টরা আপনারে কইবো—আপনি যদি মনে করেন এরশাদ হইল স্বৈরাচার, তার বিরুদ্ধে লড়া উচিত, আর যদি আরও পাঁচজনের মতো, আমিও তা একই ভাবে মনে করি… তবে আসেন, আমরা যার যার নিজ অবস্থান থিকা এরশাদের বিরুদ্ধে লড়ি। তার জন্য একটা এরশাদ বিরোধী জোট গঠনের তো কোনো জরুরত দেখি না। বরং এরশাদ বিরোধী এই জোটই আগামীতে ক্ষমতায় গেলে দ্বিতীয় এক স্বৈরাচার হিসাবে হাজির হইব। আমি ক্যান তা হইতে দিমু? যতদিন ক্ষমতা থাকব, ততদিন নতুন নতুন স্বৈরাচার পয়দা হইতেই থাকবে। ফলে নতুন এক স্বৈরাচার পয়দা করার চাইতে, আমার কাছে এই পুরানা স্বৈরাচারই বেশি পছন্দের।

এইটা মনে করা হইল গিয়া এক লিবারাল পরিস্থিতি। তয় আসলেই লিবারেল হইল কিনা, অথবা লিবারেল বইলা আদৌ কিছু হয় কি না, সেই আলাপ অন্যখানে। তয় মনে মনে ধইরা নেওয়া, এই লিবারেল পরিস্থিতির ভিতরে কাজ কামের ধরনে, এই পদের অ্যাকটিভিস্টরা হইলেন পোস্ট মডার্ন। ফলে তাগোর এই সমস্যা মূলতঃ পোস্ট মডার্ন ফ্রেমওয়ার্কের ভিতরের সমস্যা। এই অ্যানার্কিস্টরা অবশ্যই প্রথাবিরোধী, বিদ্রোহী, রেবেল—উনারা প্রচলিত মত সমূহকে নাকচ কইরা মুহূর্তে ধুলিস্যাৎ কইরা দিতে পারেন। যেন ফুৎকারে তারা উড়াইয়া দিলেন একগোছা শিমুলের তুলা। সমাজে চালু থাকা যে কোনো প্রতিষ্ঠিত সত্য, তার স্থিতি—এক তুড়িতে নস্যাৎ কইরা দিতে পারেন। তাদের এই সক্ষমতা অবশ্যই বিরাট একটা পজিটিভ বিষয়। নো ডাউট। তাদের এই ক্ষমতা নিয়া আমাদের মনে কোনো প্রশ্ন নাই। মনে কইরা দেখেন, প্রমিত ভাষার প্রশ্নে, কিংবা বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলা একাডেমির মাতব্বরির ঘটনায় রাইসুর স্পষ্ট বিদ্রোহী ভূমিকা।

এমন কি ক্ষমতা মাত্রই তার দানব হয়া ওঠা এবং তার কর্তৃত্বসুলভ আচরণ নিয়া অ্যানার্কিস্টদের যে দুশ্চিন্তা, সেইটার ভিতরে অবশ্যই মেরিট আছে। (না-মেরিটও আছে তবে সেই আলাপ এইখানে করব না। আর আছে বইলাই তো ওদের নাম অ্যানার্কিস্ট।) তাদের এই আশঙ্কার যথেষ্ট কারণও আছে। এই কথার স্বপক্ষে শক্ত আপতিক যুক্তিও আছে। যেমন ক্ষমতা মাত্রই তো, সেইটা দানব হয়া তো ওঠেই। এরশাদকে হঠায়া দেওনের পরেও আমরা স্বৈরাচারের কবল থিকা রেহাই পাই নাই। রাইসুর ভাষায় “নতুন এলিট আমরা পয়দা হইতে দেখছি।” ফলে যে কোনো বিশেষ ক্ষমতার দানবীয় হয়া ওঠার শর্ত নিয়া আমাদের কোনো দ্বিধা থাকার কারণ নাই।

শুধু আমাদের আপত্তি হইল—এই পরিস্থিতিতে নেওয়া তাদের সিদ্ধান্ত নিয়া। যেহেতু যে কোনো ক্ষমতা, এক কর্তৃত্ববাদীতার দিকে মোড় ঘুইরা, এক দানবীয় শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয়/হওনের শর্ত থাকে—ফলে আগে থিকাই তারে আমাদের পরিত্যাগ করা উচিত—আমাদের আপত্তি এই অনুসিদ্ধান্ত নিয়া। পুরাতন ক্ষমতাকে উৎখাত করার প্রশ্নে নতুন ক্ষমতাকে আমাদের ওয়েলকাম করতেই হইব। সকল ক্ষেত্রেই আপনার নতুন ক্ষমতা তৈয়ার করার পক্ষেই অবস্থান লইতে হইব। এবং অবশ্যই এই নতুন ক্ষমতার দানব হয়া ওঠার বিরুদ্ধে পূর্বসতর্কতা জারি রাখা সম্ভব, নতুন ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নতুন এলিট অনেক ক্ষেত্রেই পুরানা এলিটদের তুলনায় লিবারাল হইতে পারেন।

৫.
ভাল-মন্দ কথা কইতে আইসা—এইবার একটু খারাপ খারাপ কথা বলি। অনেকের কাছে মনে হইতেই পারে, রাইসু খুবই সুবিধাবাদী ধরনের। যেইদিকে সুবিধা থাকে, রাইসু কেবল সেই সুবিধার দিকটাতে পজিশন লয়, তার দিকে আকর্ষিত হয়। তবে রাইসুর ভাষায় সম্ভবত সেইটার আর এক নাম আছে। এইটার ব্যাখ্যা রাইসু নানান তরিকায়  দিতেই পারে। রাইসু হয়ত কইতে পারে—আমি আসলে একটু আয়েসী।  হুড় হাঙ্গামা আমার পছন্দ নয়। আর একটা দিক হইল, আমি দল পাকাইয়া কিছু করি না—এই কথার মানে হইল, অন্যের কোনো কাজের আমি কোনো দায়দায়িত্ব লইতে চাই না।

এছাড়া…, আচ্ছা রাইসুর যা যা অনুমান তা কি সঠিক? নাকি এইটাও ভুতুরে দানব ক্ষমতার মত নেহায়েতই এক অনুমান মাত্র? শুধু আয়েস লাগে, তাই রাইসু এইটার পক্ষে থাকে। কিন্তু উলটায়া পালটায়া এইটা যাচাই করা—এইটা কি রাইসুর দিক থিকা কখনও করা হইছে? তাই কি? লিবারেলিজম বইলা এই দুনিয়ায় আসলেই কি কিছু আছে? লিবারেলিজম বইলা কি আদতে কিছু হয়?

সেইসব ভারি আলাপ আপাতত এখন থাক। পরে হয়ত অন্য কোনো খানে সেই আলাপ তোলা যাইব। আজ আমাদের রাইসুর জন্মদিন, আসেন রাইসুকে শুভেচ্ছা জানাই, আনন্দ আর স্ফুর্তি আমাদের মাঝে ছড়ায়া যাক…। রাইসুর দীর্ঘ জীবন আর সুস্বাস্থ্য কামনা করি। ভাল থাকেন, আমাদের সবার প্রিয়, ব্রাত্য রাইসু।

১৯/১১/২০১৭

Facebook Comments

Leave a Reply