ব্রাত্য জনের রাইসু

এখন থেকে ২৬ বছর আগের কথা। তখন রাইসুর নাম ব্রাত্য কেন, এ নিয়ে অনেকের মতো আমারও খানিকটা কৌতূহল ছিল।

ব্রাত্য রাইসুকে আমি চিনি ‘৯১ সাল থেকে। এখন থেকে ২৬ বছর আগের কথা। তখন রাইসুর নাম ব্রাত্য কেন, এ নিয়ে অনেকের মতো আমারও খানিকটা কৌতূহল ছিল। রাইসু ব্রাত্যজন, প্রলেতারিয়েত নাকি বুর্জোয়া—এসব আলোচনাও আমরা তখন করেছি।

স্বৈরাচারী এরশাদ পতনের পর, নব্বই দশকের গোড়ার দিক থেকে হঠাৎ করেই বাংলাদেশের শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি এবং গণমাধ্যমে এক বড় পরিবর্তন এসেছিল। রাইসু এবং আমি নিজেও সেই পরিবর্তনের ফসল বলে আমি মনে করি।

জ. ই. মামুন

তখন আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ, সাপ্তাহিক খবরের কাগজ, সচিত্র সময়—এরকম একগাদা পত্র-পত্রিকা ঘিরে ছিল আমাদের বিচরণ, লেখালেখি!

ধীরে ধীরে আমি সাংবাদিক হয়ে উঠেছি, রাইসু লেখক এবং সমালোচক হয়ে উঠেছেন।

রাইসু আগে থেকেই সমালোচক ছিলেন, তিনি প্রথাগত কথাবার্তা জীবনাচরণের বাইরে ছিলেন সেই সময় থেকেই। সেজন্য আমরা কেউ তাকে পছন্দ করতাম, কেউ অপছন্দ করতাম, কিন্তু রাইসু এর কোনোটিকেই বিশেষ পাত্তা দিতেন বলে মনে হয় না।

সময়ের স্রোতধারায় আমরা অনেকটা পথ চলে এসেছি, রাইসু এখন ৫০, আমারও হবে কিছুদিন পর।

এই অর্ধ শতাব্দীর জীবন পার করে এসে রাইসুর কী মনে হচ্ছে জানি না, আমার মনে হচ্ছে রাইসু তার জীবনকে উপভোগ করেছেন, করছেন এবং আরো অন্তত বছর পঞ্চাশেক তিনি এভাবেই জীবনকে উপভোগ করতে চান।

শুভ জন্মদিন ব্রাত্যজন!

১৯/১১/২০১৭

(কভারের ছবি. বুড়িগঙ্গা ৩য় সেতু, কেরানীগঞ্জে)

Facebook Comments
More from জ. ই. মামুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *