ব্রাত্য রাইসুর খোঁজে

রাইসুর সাথে আমার পরিচয় অনলাইন জগতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, বলতে পারেন এই লেখাটি মফস্বলের এক কিশোরের রাইসুর প্রতি মুগ্ধতা। এখানে অন্য কিছু খুঁজতে চাইলে ভুল করবেন।

রাইসুকে কীভাবে জানলাম? হুমায়ূন আহমেদের হিমু সমগ্র সদ্য শেষ করে, মনে মনে নিজে হিমু হতে চাইতাম, বা হিমুকে আশে-পাশে খুঁজতাম।

হিমু সম্পর্কিত একটা গ্রুপে আড্ডা দিচ্ছিলাম,  ওখানে একটা পোস্টের কমেন্টে আমার চোখ আটকে গেছিল। কমেন্টটা ছিল,  হুমায়ূন আহমেদ যদি কাউকে দেখে বা অনুপ্রাণিত হয়ে হিমু লিখতেন, তাহলে সেই নামটি হল ব্রাত্য রাইসু। ওখান থেকেই ব্রাত্য রাইসু সম্পর্কে আগ্রহ জন্মে।

এরপর শুরু হল ‘রাইসু’ অনলাইন খোঁজাখুঁজি। প্রথমে সার্চ করেছিলাম ইউটিউবে, ‘রাইসু’ দেখার ইচ্ছা থেকেই ইউটিউবে সার্চ করা। উনার কোনো ইন্টারভিউ যদি পেয়ে যাই, তাহলে সহজে অনেক তথ্য পাবো—এ চিন্তায় আমি ইন্টারভিউ খুঁজতে লাগলাম। তবে উনার কোনো ইন্টারভিউ, বায়োগ্রাফি এখন পর্যন্ত ইউটিউবে নেই।

মোহাম্মাদ মোস্তফা ইভান সোহেল

তবে বেসরকারি চ্যানেলে দুইটা প্রোগ্রামে রাইসু অতিথি হয়ে এসেছিলেন, এ দুইটাই দেখলাম। রেয়ার জিনিস। অনুষ্ঠানে উনার ছিল স্টাইলিশ বাচনভঙ্গি, আর ওভারলোডেড স্মার্টনেস। অনুষ্ঠানের সব আলোই ছিল তার দিকে (ভিডিওর কমেন্টগুলা পড়লেই বুঝতে পারবেন)। যদিও সেখানে একজন স্বনামধন্য পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উনি খুব হাসি দিয়ে জটিল সব প্রশ্নের নিজস্ব ঢংয়ে উত্তর করেছিলেন। গুরুগম্ভীর আলোচনার টপিককে উনি হাসির টপিক বানিয়ে ছেড়েছিলেন।  প্রথম বার রাইসুকে দেখে ডায়রিতে একটা মন্তব্য লিখে রেখেছিলাম—

“আমি আমার গড়া পথে চলি
হেলেদুলে চলি
পথের কাঁটা আমি উপড়াই না
গা বাঁচায়ে চলি”

এরপর শুরু হয় রাইসুকে গুগলে খোঁজা। গুগলে সার্চ করে রাইসু সম্পর্কে অনেক তথ্য পেলাম। যে মানুষটাকে হিমু ভেবে ভালোবেসে ছিলাম তার কিয়দংশ জেনে বুঝতে পারলাম হিমুর মতন এমন অসংখ্য চরিত্রের বসবাস তার মাঝে আছে। শুধু হিমু ভেবে রাইসুকে ভালবাসা, জানতে চাওয়া মূর্খতা।

রাইসু সম্পর্কিত বিভিন্ন পোস্ট পড়তে পড়তে জানতে পারলাম রাইসু আহমদ ছফার স্নেহধন্য। আহমদ ছফাকে ভাল লাগে তার কঠিন সত্যবাদিতার জন্য, তার মন্তব্যগুলোর জন্য। এরপর দেখলাম আহমদ ছফার মন্তব্যগুলো যদি কাউকে বিদ্ধ করে তাহলে রাইসুর কথাবার্তা তাদের উড়িয়ে দেবার ক্ষমতা রাখে।

ইতিমধ্যে আমি রাইসুর অনেকগুলো পরিচয় পেয়ে গেছি। উনি বই লেখেন এটা জানতে পেরে প্রথমেই স্কুলের এক স্যারকে বলেছিলাম একটা বই এনে দিতে। আর আমি সেদিন বিকালেই আমাদের শহরের সব কয়টি লাইব্রেরি খুঁজলাম। যদিও সেদিন আমি বই পেয়েছিলাম না।

এবার এসএসসি শেষ করে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুললাম। ‘ব্রাত্য রাইসু’ লিখে সার্চ করলে তিনটা অ্যাকাউন্ট এসেছিল। যাচাই না করে তিনটাতেই ফলোয়ার হয়েছিলাম। প্রথমেই অ্যাড রিকুয়েস্ট দিতে ভয় হচ্ছিল।  এরপর ব্রাত্য রাইসুর অ্যাকাউন্ট সনাক্ত করলাম এবং স্ক্রল করতে থাকলাম। উনার ঐ বছরের সব পোস্টই পড়ে শেষ করে ফেললাম। আর ফেসবুকে এসে যেন উনার আরো কাছে আসতে পেরেছি বলে মনে হল,  উনার লাইফস্টাইল আরো কাছে থেকে জানতে পারছিলাম। উনার আপলোড দেয়া ছবিগুলো দেখে খুব ভাল লাগে, বিশেষ করে বললে উনার লম্বা স্টাইলিশ চুল আর উনার পোশাক সেন্স। জানি না জীবনে স্টাইলিশ হিরো বলে উনি কাউকে ফলো করতেন কিনা। খুব সম্ভবত না।  কারণ এমন রাইসুর এমন সব স্টাইলে অন্য কাউকে কল্পনা করা যায় না। রাইসুর সব কিছু স্বতন্ত্র, নিজের সৃষ্টি।

এবার বলব রাইসুর এমন একটা দিক নিয়ে, যা প্রায় সবারই অজানা। উনার খুব কাছের কয়েকজনই জানেন। উনি আগেপিছে না ভেবে সাহায্য করতে পারেন। উনি মানুষকে সাহায্য করেন এই বিষয়টাই এত প্রচারবিমুখ কেন জানি না। হয়ত রাইসু বলেই এটা সম্ভব। হয়ত তার আর একটা স্বতন্ত্র গুণ। মানুষকে সাহায্য করার এ বিষয়টা তিনি বরাবরই এড়িয়ে যান।

এবার বলব রাইসুর সমালোচনাকারীদের জন্য কিছু কথা। কিছু লোক সব সময় রাইসুকে ছোট করার তালে থাকে, হ্যান ত্যান ত্যানা প্যাচায় রাইসুকে নিয়ে। আমি বুঝতে পারি না, তারা কেন করে এগুলা, হয়ত সঠিক সময়ে কবি খ্যাতি না পাওয়ার হতাশা থেকে হতে পারে। কিংবা মানুষকে ছোট করে তারা নিজেদের বংশের পরিচয় দেওয়ার জন্যও এগুলো করতে পারে। কিছু কথিত এলিট, প্রগতিশীল, বুদ্ধিজীবীদের চক্ষুশূল তিনি। রাইসু তাদের গোনায় ধরেন না, এজন্যেও অবশ্য ঐ সব এলিটরা তাদের টাইমলাইনে কান্নাকাটি, সার্কাজম করে। ওদের উদ্দেশ্যে শেষ কথা বলব—রাইসু রাইসুই!

রাইসু নিজের মতো চলে, নিজের মতো চলার জন্য মৃতের কফিনে ট্যাঙ্গো নাচতে রাজি আছে। রাইসু বৃষ্টির দিনে বৃষ্টির গান শোনে না, বৃষ্টিকে কবিতা শুনিয়ে বকসিস নেয়। তাই রাইসুকে এমন শিশুসুলভ জ্ঞান দিতে আসবেন না যে বৃষ্টির দিনে বৃষ্টির গান শুনতে হয়।

আমি আমার লেখায় রাইসুর লেখনি নিয়ে কিছু বলি নি, বলার যোগ্যতা আমার নেই।  তবে স্বপ্ন দেখি একদিন রাইসুর পাশে বসে শুনব রাইসুর স্বপ্নের কথা, রাইসুর লেখনির কথা। আর যদি যোগ্যতা হয়, সম্ভব হয় তাহলে একদিন আমি রাইসুর একটা ইন্টারভিউ নিব।

একদিন টংয়ে বসব রাইসুর সাথে,  ধানমণ্ডি লেক ধরে হাঁটব সদাহাস্য রাইসুর সাথে।

ভাল থাকুন আমার আমাদের সবার  প্রিয় রাইসু।

Facebook Comments

Leave a Reply