রাইসু বোধহয় আমার বন্ধু

কালো-কোলো, বেশ নিরীহ দর্শন আর বাটার স্পঞ্জের স্যান্ডেল পরা রাইসু আমার তখনকার বন্ধুদের সাথে একাকার হয়ে গেল।

রাইসু সম্ভবত আমার কাছাকাছি বয়সের বাঙালি কবিদের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিভাধর কবি। কথাটা হয়ত আমার মত অপ্রয়োজনীয় মানুষের কাছ থেকে না শুনলেও চলে। কবিতার কী বা বুঝি! তাই রাইসুর কথাই বলি কবিতার কথা ছেড়ে। সে হয়ত আমার বন্ধু। অন্তত পরিচিতজন তো বটেই। অবশ্য বন্ধু বিষয়েই বা কী জানি!

রাইসুর সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৮৮ সালে। আমি তখন নটরডেম কলেজের ছাত্র। বন্ধুদের সাথে বামপন্থী পাঠচক্র করি, আর নিজেকে খুব জ্ঞানী ভাবি। যদিও পরীক্ষায় গোল্লা পাই। স্কুলের বন্ধুদের সাথে করা পাঠচক্র (সদস্যদের একজন ছিলে সুজিত, যার কথা পরে বলব) তখন বড় হয়ে নটরডেম আর ঢাকা কলেজ সহ আরো বন্ধুদের দলভুক্ত করেছে। তো এই সূত্রেই পরিচয় হল ফৌজিয়া আর শিমুর সাথে। আর তাদের সূত্রে বাংলা মটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে যাওয়া-আসা শুরু করলাম আমি আর মিল্লাত—পাঠচক্রের আরেক সদস্য (পরে ফৌজিয়াকে বিয়ে করেছিল, বিয়েটা টেঁকে নি)।

সে বছর বন্যায় ঢাকা ডুবে গেল, মেলা মানুষ মিলে রুটি আর স্যালাইন বানাতে শুরু করল টিএসসিতে, বন্যাত্রাণ হিসাবে, সাথে গুড়। টিএসসি আর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলে বেশ একটা চলাফেরা শুরু হল। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে তখন লিয়াকত ভাইয়ের দর্শন পাঠচক্র চলে, নিয়মিত আসে পুলকদা, যার সাথে আগে থেকেই পরিচয় ছিল। লিয়াকত ভাইয়ের দর্শনচক্রে যোগ দিল তীব্র আর জিয়া, দু’জনেই ঢাকা কলেজে সুজিতের সহপাঠী। স্বরিত আবৃত্তি চক্রের কয়েকজনও বেশ আসে-যায়। পরিচিত জনের সংখ্যা বেড়ে ৭-৮জনে পৌঁছল, নিয়মিত আড্ডার জন্যে যথেষ্ট।

আদিত্য কবির

এ রকম সময়েই রাইসুর সাথের পরিচয়। যখন শুনলাম রাইসু কবিতা পড়ে এবং লেখে, কিন্তু আধুনিক কবিতা কিছু পড়ে নি তখন পাকনামি প্রবৃত্তির বশে এবং স্বরিত-কণ্ঠশীলনে কবিতা চর্চার অহঙ্কারে একদিন বেশ বক্তৃতা দিয়ে দিলাম কবিতা ব্যাপারটা কী আর ভালো কবিতা কী করে লিখতে হয় সেই বিষয়ে।

রাইসু বেশ শুনল। বোধহয় মনে-মনে হেসেই কুটিপাটি হয়েছিল, আমি বুঝতেই পারি নি।

আরো ক’দিন পরে শুনলাম রাইসুর কবিতা—“এই ফাঁকা রাস্তায় উড়ে যাচ্ছে বাসন্তী রমণীরা/বৃক্ষে বৃক্ষে শুরু হলো কথোপকথন”* (মিসকোট হলে মাফ করতে হবে, স্মৃতিদৌর্বল্যে ভুগি অবিরাম)। কবিতার আধুনিকতা না শিখেই এ রকম লেখা! আমার চুল দাঁড়িয়ে গেল। সেই চুল প্রায় ৩০ বছর ধরে দাঁড়িয়েই আছে। রাইসুর যতগুলো কবিতা পড়েছি তার প্রত্যেকটা পড়েই মুগ্ধতায় স্তম্ভিত হয়েছি। এমনটা জীবিতদের মধ্যে আর কেবল বলতে পারি মৃদুল দাশগুপ্ত সম্পর্কে—কিন্তু মৃদুলদা এ রচনার বিষয় নয়।

কালো-কোলো, বেশ নিরীহ দর্শন আর বাটার স্পঞ্জের স্যান্ডেল পরা রাইসু আমার তখনকার বন্ধুদের সাথে একাকার হয়ে গেল। নাকি আমিই রাইসুর বন্ধুদের সাথে একাকার হয়ে গেলাম? কে জানে! বন্ধুদের সংখ্যাও তখন বিস্তার লাভ করেছে, যার মধ্যে আছে সাজ্জাদ ভাই আর তারিক ভাই, সাথে শান্তনুদাও। এরা সবাই লিয়াকত ভাই আর পুলকদার বন্ধু। রাইসু আর আমি মেলাই নির্লজ্জ ছিলাম, গায়ে পড়ে ভাব জমাতাম। ভাব জমতও।

তীব্র, জিয়া আর সুজিত মন দিয়ে দর্শনচর্চা করে। সাজ্জাদ ভাই দর্শনের গল্প বলে। রাইসু আর আমি তাদের সবার কাছেই দর্শনের গল্প শুনি। এজে এয়ারের বই পড়তে শুরু করলাম, সাথে বার্ট্রান্ড রাসেল, বিশেষ করে হিস্টোরি অফ ওয়েস্টার্ন ফিলোজফি

সে কী উত্তেজনা! পাকনামি বেড়েই চলেছে। কেবল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আর চলছে না। সাথে যোগ হল অলিয়ঁস ফ্রঁসেজ (বানান ভুল হলে মাফ করতে হবে, ফরাসি ভাষা আমার পক্ষে সম্ভব না, চেষ্টা করে হাল ছেড়েছি), গেটে ইন্সটিট্যুট, ব্রিটিশ কাউন্সিল (যা কিনা আমার তখনকার বাসার কাছেই) ইত্যাদি।

ডিসকোর্স তখনও বামপন্থী। ডায়ালেকটিক্যাল ম্যাটেরিয়ালিজম থেকে লজিকাল পজিটিভিজম হয়ে আমরা পৌঁছলাম ফরাসি নিউ ওয়েভ সিনেমায়।

আমরা কলেজে পড়ি, রাইসু আমাদের এক বছরের ওপরের ব্যাচে, তিতুমীর কলেজের ছাত্র। ভাই-দাদাদের দলটি বেশ খানিকটা বড়, বেশিরভাগই স্নাতকোত্তর। আড্ডা এবেলা উপচে পড়ল শাহবাগে। প্রথমে সিনোরিটা, তারপর সিলভানা, তারো পরে পিজির মোড়ে। ফরহাদ মজহার তখন আমাদের বিরাট হিরো। সাজ্জাদ ভাই আমাদের গল্প বলেন ফরহাদ মজহার, গায়ত্রী স্পিভাক, বিনয় মজুমদারের—বলেন জাক দেরিদা, মিশেল ফুকো, জাক লাকাঁর গল্প। আমরা মুগ্ধ হয়ে শুনি।

আমি ততদিনে পূর্বাভাস পত্রিকায় পেটে ভাতে গতর খাটতে শুরু করেছি। রাইসু তখনো বেকার। দু’জনেরই ভারি অর্থকষ্ট, আমার থেকেও রাইসুর বেশি। কিন্ত সিনোরিটা-সিলভানা-পিজির ফুটপাথের সেই শীত শীত সন্ধ্যাগুলো সম্ভবত জীবনের সেরা সময়গুলোর মধ্যে বিশাল জায়গা দখল করে আছে। সেখানে পরিচিত হলাম গাণ্ডীব দলের সাথে, তপনদা আর তার তিন রথীর মধ্যে সাজ্জাদ ভাই আর শান্তনুদাকে আগেই চিনতাম, এবার শাদাব ভাইকেও চিনলাম।

আরো চিনলাম ছোট গল্পকার সেলিম ভাই, পারভেজ ভাই আর নাসরিন আপাকে (নাসরিন আপা মদ খাওয়াতেন, আফসোস আমি তখন ও রসে বঞ্চিত ছিলাম)। চিনলাম কবি মঈন ভাই, স্টালিন ভাই, বিষ্ণু, নকিব ভাই, সুব্রতদা, স্টিভদা প্রমুখ আরো অনেককে। পুরনো আলাপীদের মধ্যে পেয়ে গেলাম সঞ্জীবদাকে। ১৯৮৯ সালে জাতীয় কবিতা উৎসবের পরে আলাপীর পরিধি আরো বড় হলো। আমরা ঘুরে ঘুরে বেড়াই, যত লিখি তার চেয়ে বেশি পড়ি, আর তারো চেয়ে বেশি চাপা মারি। ৬ টাকা একটা বার্গার, ১ টাকা চা। তাও কেনার সামর্থ নেই। তবু ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেস্টুরেন্টেই বসে থাকা, রেস্টুরেন্ট ফুরিয়ে গেলে সামনের ফুটপাথে।

সামনে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা। আমি, রাইসু আর সাজ্জাদ ভাই নিয়মিত আসা যাওয়া শুরু করলাম তীব্রর বাসায়, শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে, মাঝে মধ্যে জিয়ার বাসাতেও, বনানী চেয়ারম্যানবাড়িতে। সাজ্জাদ ভাইয়ের দয়াগঞ্জের বাড়িতেও যাই, সেখানে আরো থাকে তার বড় ভাই ফরিদ ভাই, তখনকার দিনের হর্তাকর্তা কবি, ঢাকা-কলকাতা-চট্টগ্রামে মেলা তার কাব্য-সংযোগ। তীব্রর প্রতিবেশীদের মধ্যে আছে লীসা আপা, একজন আবৃত্তিকার, আর টুম্পারা দুই বোন। বোধহয় টুম্পা (নাকি তার বোন? নাম গুলিয়ে ফেলি স্মৃতিদৌর্বল্যে) আর তীব্রর একটু ভাবসাব হচ্ছিল, লীসা আপা আর সাজ্জাদ ভাইয়ের মধ্যেও।

সাজ্জাদ ভাই আমাদের গুরুস্থানীয় হয়ে দাঁড়ালেন। তিনি বলেন, আমরা শুনি। তিনি আমাদের কবিতা কলাকৌশল ব্যাখ্যা করেন, আমরা শিখি। তিনি আমাদের কবিতা পড়তে দেন, আমরা পড়ি। তিনি যথা যান, আমরা পশ্চাদ্গমন করি, বিশেষ করে আমি আর রাইসু। কিছুদিনের মধ্যে আধুনিক বাংলা কবিতার আরেক সাপ্লায়ার হয়ে দাঁড়ালেন ফরিদ ভাই, সাজ্জাদ সহগর্ভ। এই কালেই আমাদের পড়া হল জয় গোস্বামী, মৃদুল দাশগুপ্ত, উৎপল বসু প্রমূখের (শেষোক্তজন যদিও ঠিক সমসাময়িক নন, কিন্তু তিনি প্রবলভাবে মুগ্ধ করেছিলেন, এবং এও বলা বাঞ্ছনীয় যে তাঁর সাথে রাইসুর কিছু মিল আছে বলে আমার সন্দেহ মেলাদিন ধরে)। আমি মৃদুলদার কবিতার প্রেমে পড়ে গেলাম—“কবে যে আপেল গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মরে যাব।”

সপ্তাহে দু’তিন দিন রাইসু আমার বাসাতেই খায় (বাসাটা ছিল শাহবাগ আর শহীদ মিনারের মাঝখানে ভারি স্ট্র্যাটেজিক লোকেশনে), মাঝে মধ্যে রাতেও থেকেছে। আমাদের নানা ঘোরাঘুরির মধ্যে শ্যামলীতে উবিনীগ দপ্তর ছিল, আরো ছিল মোহাম্মদপুরে প্রবর্তনার দপ্তর। ফরহাদ মজহার তার আড্ডায় সবাইকে আপনি বলতেন, আমাকে ছাড়া। দীর্ঘসময় ধরে রাইসু আর আমি একসাথে হেঁটেছি, প্রায় অবিচ্ছেদ্য হয়ে।

আমাদের একেবারেই টাকা ছিল না। কিন্তু আমাদের অনেক মুগ্ধতা ছিল। আর ছিল স্থির বিশ্বাস যে আমরা সাংঘাতিক কবি।

এর মধ্যে নাটকও ছিল নানা রকম। একবার আমি আর রাইসু নিশ্চিত হয়ে গেলাম সাজ্জাদ ভাই আত্মহত্যা করতে যাচ্ছে। আমরা সে আশঙ্কা এড়াতে নানা ছোটাছুটি করতে শুরু করলাম। তার মধ্যে সাজ্জাদ ভাইয়ের ছেলেবেলার বন্ধু আরিফ ভাইয়ের বাসায় গিয়ে তাকেও জানিয়ে এলাম। সব সময়ে পাহারা দিয়ে রাখার চেষ্টাতেও নিয়োজিত হলাম। কেউই অবশ্য আত্মহত্যা করে নি। সাজ্জাদ ভাই এখনও জীবিত, এবং বাংলাদেশের সাহিত্যের একজন মস্ত হর্তাকর্তা বটেন। ধারণা করতে পারি, এর সাথে আমাদের চেষ্টা একেবারেই জড়িত নয়।

আরেকবার রাইসু আর আমি গেলাম বগুড়া, কবি মাসুদ খানের বাসায়, সাজ্জাদ ভাই আর নকিব ভাইয়ের সাথে। ভারি আনন্দ হল। নানারকম কবিদের সাথে আড্ডা, শিল্পকলা একাডেমি, মহাস্থান ইত্যাদি ভ্রমণ, দই উপভোগ ইত্যাদি মিলিয়ে জমজমাট। মাসুদ খানের কবিতার আমি তৎক্ষণেই ভক্ত হয়ে পড়লাম—“হাম্মুরাবি ভেসে ভেসে আদিকৃত্যে যায়/ উঁচিয়ে রাখা তর্জনীতে তার একটি ফড়িং উড়ে উড়ে শুধু বসতে চায়।” নকীব ভাইও ভারি দারুণ কবি ছিলেন, মুদ্রা নামের কবিতাটির কথা বিশেষ মনে পড়ে।

ফেরার পথে রাইসু আর আমি ঠিক করলাম আমরা একবারে বাসায় যাব না। মনে রাখতে হবে, আমার তখনো ইন্টারমিডিয়েটের ফল বার হয় নি। পাকনামি যতই করি বয়সটা বেশ কম।

যাই হোক, আমরা দিব্বি ঢাকায় এসে রাতে বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম। কোথায় থাকা যায়? আমাদের ধারণা কম, তাই শেষটায় ঠিক হল রাতে থাকব কমলাপুর রেল স্টেশনে। থাকলাম তো বটে, কিন্তু একটা বেঞ্চেও বসার জায়গা নাই, মানুষ দিয়ে ভরা। দূরে দেখি একটা বেঞ্চি খালি, কেবল এক কোণে পাগল মতো কে একটা। খুশি হয়ে কাছে গিয়ে দেখি সর্বনাশ, পাগলমতো লোকটা মহা সেয়ানা, বেঞ্চের চারিদিক ঘিরে টিপ টিপ গু। কারো ওখানে বসার প্রশ্নই ওঠে না। আমাদেরও না।

আমরা স্টেশনের দোকানে কলা-রুটি-চা সেবন করে দু’টো খবরের কাগজ কিনে ফিরে গেলাম প্লাটফর্মে। খবরের কাগজের একাংশ বিছিয়ে অপরাংশ চাদর করে শুয়ে পড়লাম। খবরের কাগজের এমনি সব আশ্চর্য ব্যবহার আমি এখনো চালু রেখেছি, যদিও সাংবাদিকতা ছেড়েছি বহুকাল। সেদিন অবশ্য এই পাতার পোশাক আমাদের কোনো কাজেই আসে নি মশার আক্রমণে। সে কি সাংঘাতিক মশা! আজকের দিন হলে একরাতে আমাদের ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, চিকনগুনিয়া সব হয়ে যেত।

আমরা উঠে পড়লাম। এবার চান্স নিলাম খালি ট্রেনের খালি বগিতে। উঠে বসলাম তাতে, আর জুটে গেল নানা লোকজন। রাত ভরে গল্প শুনলাম রেলের জিনিস তারা কীভাবে চুরি করে, বিশেষ করে রেলগুদামের জিনিস। সে জ্ঞান হারিয়ে গেছে আমার দুর্বল স্মৃতির কারণে। কিন্তু রাতটায় ঘুমানো হল না। ভোর রাতে বাথরুম করতে গেলাম স্টেশনের ময়লা বাথরুমে, পথে নানা দৃশ্য। আবিষ্কার করলাম এক লোক প্রকাশ্যে লুঙ্গির নিচে হাত মারছে। রেলের বাথরুম সাহস হল না, মসজিদের বাথরুমে গেলাম। সেও খুব পরিষ্কার কিছু নয়। সুবাহ সাদিকের কিছু পরে, বাদ ফজর আমরা স্টেশন ত্যাগ করলাম।

একরাত স্টেশনে থেকেই আমরা বুঝে গেলাম এ কাজ আমাদের জন্যে নয়। পরের দিন হাজির হলাম জিয়ার বাসায়, একরাত ওর বাসায় থাকা যায় কিনা এই মতলবে। জিয়া রাজি হল না। আমরা ঘরের ছেলে ঘরেই ফিরে গেলাম। আমাদের অবশ্য থাকতে দেয়ার কথাও নয়। আমাদের দু’জনেরই মূর্তি তখন অতীব করুণ। জীর্ণ পোশাক, অস্নাত চুল, স্পঞ্জের স্যান্ডেল ইত্যাদি ছিল আমাদের বাহ্যরূপ, তারওপর নিতান্ত অকওয়ার্ড। তীব্র, জিয়া, সুজিত, লীসা আপা, টুম্পা… কেউই আমাদের ঠিক পছন্দ করত বলে মনে হয় না। পছন্দ করার কোনো কারণ নেই। স্বাভাবিকভাবেই এক সময়ে আমাদের সম্পর্কগুলো নেই হয়ে গেছে এক সময়ে।

স্টেশনে টিঁকতে পারি নি ঠিক, কিন্তু এরপরই আমি রেল সিরিজ নামে হাইকু-তানকা সাইজের কবিতামালা লিখতে শুরু করেছিলাম। সেই বগুড়া সফরের পর রাইসুর সাথে আর কোথাও যাওয়া হয় নি, বন্ধুদের বাসায় ছাড়া। পয়সা ছিল না, তাই হেঁটে হেঁটেই চলে যেতাম শাহজহানপুর, বনানী। বনানীতে তখন ধানক্ষেত, সে কথাটা মনে না করে পারছি না। ক্ষিদে পেলে এর তার বাসায় খেয়ে নেই।

এমনি করে একদিন পলাশীতে গেলাম ফাকরুল ভাইয়ের বাসায়। সেখানে আরো যায় জয়দীপ এবং আরো বন্ধুরা। ফাকরুল ভাইয়ের বাসায় আমাকে উস্কে দিল সবাই মিলে বন্ধুদের বিষয়ে যাচ্ছেতাই বলার জন্যে, আমিও বোকার ‍উৎসাহে খুব কমেন্ট্রি দিয়ে দিলাম সাজ্জাদ ভাই, তপনদা, পারভেজ ভাই, সেলিম ভাই প্রমুখের নামে। ফাকরুল ভাই আবার সেটা রেকর্ড করে রাখল, তখন ক্যাসেট টেপ রেকর্ডারের যুগ। পরে মেলা দিন আশঙ্কায় ভুগলাম সেই টেপের বিষয়বস্তু যাদের নামে তাদের কানে চলে যাবে এই ভেবে।

আরেকবার সাজ্জাদ ভাই, আমি আর রাইসু গেলাম হুমায়ুন রেজার এক বন্ধুর বাড়িতে, বন্ধুটি জ্যোতিষ চর্চা করে। আরেকবার গেলাম মঈন ভাইয়ের বাড়িতে, গিয়ে শুনলাম রারাটোঙ্গা দ্বীপে তার আশ্চর্য অভিজ্ঞতার কথা। আর আমরা গেছি ঢাকার সব আর্ট একজিবিশনে। গ্যালারিতে গ্যালারিতে ঘুরতে ঘুরতেই আবিষ্কার করলাম রাইসুর একটা নিজস্ব ড্রইং ভাষা আছে, এবং কাগজের খাতায় পেন্সিলে আঁকা তার ছবিগুলো অসাধারণ। বলাই বাহুল্য আমিও কিছু দিন ছবি আঁকার চেষ্টা করলাম। অনেকটা কেশোৎপাটনের পর ও কাজে ক্ষান্ত দিলাম।

জীবন তখন অনিত্য। প্রতিদিন একটা নতুন অ্যাডভেঞ্চার—লীসা আপার বয়ফ্রেন্ডের জন্যে শার্ট কেনা থেকে সাইন্স ল্যাবের মোড়ে হালিম খাওয়া।

একসময়ে লীসা আপার বিয়ে হয়ে গেল (বিয়েটা টেঁকে নি)। সাজ্জাদ ভাইয়ের মন উদাস হল। আমি আর রাইসু তখনো শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে আড্ডা দিয়েই চলেছি। প্রথমে তীব্রর বাসায়, তারপর লীসা আপার বাসায়, তারপর টুম্পাদের বাসায়, কোয়ার্টারের নিচে, গ্যারেজের ছাদে…। আমরা সবাই একসাথে শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভাল এমাথা ওমাথা পুরোটা দেখে ফেললাম, সব শো, সব সেমিনার, সব নিউজলেটার। দিনরাত সিনেমার মধ্যে থাকার সে কি গভীর আনন্দ। শর্ট ফিল্ম ফোরামের সূত্রে তারেক ভাই (তিনি অচিরে শর্ট ফিল্ম ফোরামের সম্পাদক হয়েছিলেন), পুলকদা, অঞ্জনদা, রনি, জুয়েল, আতিক, আকরাম এমনি আরো অনেকের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ল। আরো একটা শীতকাল পার হয়ে গেল, ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সময় চলে এলো।

আমি আর রাইসু একসাথে জাহাঙ্গীরনগরের ফর্ম ভরলাম। তখনই জানতে পেলাম রাইসুর একটা মন্ত বড় পোশাকি নাম আছে (নামটা মনে আছে, কিন্তু লিখলাম না)। তখন পর্যন্ত রাইসু লেখে র রাইসু নামে। ব্রাত্য রাইসু নামে লিখতে শুরু করেছে বোধহয় গাণ্ডীবে লেখা শুরু করার পর। সেও এক কাণ্ড। তখন দেশের সবচেয়ে নাক উঁচু লিটল ম্যাগাজিন ছিল গাণ্ডীব। তপনদার সেই লৌহদূর্গে তখন অব্দি সাজ্জাদ-শান্তনু-শাদাব কবিত্রয়ী আর গল্পকার সেলিম-পারভেজ-তারেক ছাড়া বিশেষ কারো লেখা ছাপে না। সেবার গাণ্ডীব তার চক্রব্যুহ বড় করল, নকিব ভাই, মাসুদ খান, রাইসু, তীব্র, সুজিত—সবাই জায়গা পেল সেখানে। আমি বাদ। ভারি মন খারাপ হয়েছিল।

রাইসু কবি থেকে আরো কবি হয়ে চলেছে তখন। আমি কি একটু জেলাস? কে জানে! কিন্তু ঝাঁকে ঝাঁকে লোক এসে আমাকে রাইসু কোথায় এই প্রশ্নে প্রতিদিন প্রশ্নবিদ্ধ করে এই ব্যাপারটায় আমি তখন বেশ হয়রান। দু’একজনকে বলেই দিলাম, “আমি কি রাইসুর সেক্রেটারি?” রাইসু আর সাজ্জাদ ভাই তখন শামসুর রাহমান ইত্যাদি বিশাল কবিদের সান্নিধ্য করে। আমি তার থেকে দূরে। পরে অবশ্য শামসুর রাহমান, সাজ্জাদ ভাই আর রাইসুর সাথে একটি কবিতা আলোচনায় অংশ নিয়েছিলাম। অনেক পরে। ফরিদ ভাই ও গৌতমদার সম্পাদনায় ততদিনে বেরোচ্ছে শতজল ঝর্নার ধ্বনি পত্রিকা। বইমেলাতে রাইসুর আশেপাশে কলকাতার প্রথাবিরোধী কবিরা।

রাইসুর কবিতাও ততদিনে আরো সাংঘাতিক হয়ে উঠেছে—“কিন্তু এসব কথা আমি কাকে বলি/ আমার বুকে অশ্বক্ষুরধ্বনি/ আমার চুলে জলপাই তেলের গন্ধ” (মিসকোট করে থাকরে আবারো দুঃখিত)। আমি তখন রেল সিরিজ আর ভানুমতী সিরিজ লিখছি, শেষটায় জায়গা হল তাজুলের পত্রিকা নদীতে, ছবি আঁকলেন শিশিরদা, তাতে বায়েজীদ আর শামীমের কবিতাও ছিল। তখন ওরাই আমার বেশি বন্ধু হয়ে গেল, আড্ডাস্থল আন্ডার কন্স্ট্রাকশন আজিজ মার্কেট।

এও ফুরালো। শাদাব ভাই মানসিক সমস্যায় হারিয়ে গেল। সেলিম ভাই দুই স্ত্রী আর প্রচুর মদ্যপানে চুপচাপ হয়ে গেলেন। বিষ্ণু মানসিক আর নেশার সমস্যায় উধাও হয়ে গেল। মঈন ভাই আর তারিক ভাই বোধহয় সাধু হয়ে গেল। সুব্রতদা চলে গেলেন অস্ট্রেলিয়া, মাসুদ খান কানাডা। কচি ভাই, যিনি তৎকালে ইচক নামেই প্রসিদ্ধ ছিলেন, এবং সুব্রত-বিষ্ণুর সম্পাদক ছিলেন, তিনিও যে কোথায় বলতেই পারব না। তীব্র-জিয়া চলে গেল দেশের বাইরে পড়তে, আর ফিরল না। তারেক ভাই মারা গেলেন সুদূর মহেশখালি দ্বীপে বিনা চিকিৎসায়। শামীম আত্মহত্যা করল বগুড়ায় নিজের বাড়িতে।

আমি কিছুদিন সাজ্জাদ ভাইয়ের সাথে একই সংবাদেপত্রে কাজ করলাম, প্রথমে আজকের কাগজ, তারপর ভোরের কাগজ। সেখানে সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন শাহরিয়ার ভাই। কক্ষনো আমার কবিতা ছাপেন নি। তৎকালে আমি জীবনে প্রথম একা দেশত্যাগ করলাম, গন্তব্য কলকাতা বইমেলা, রাইসু আমাকে কলকাতার প্রথাবিরোধীদের মধ্যে তার চেনা তরুণতম ব্যক্তিত্ব রণজিৎ দাশগুপ্তের ঠিকানা—ডানকুনি আবাসিক এলাকা।

ওই ঠিকানা মিরাকলের মত কাজ করল। বইমেলায় একটি ছেলেকে গিটার বাজাতে দেখে কলকাতার ব্যান্ডগুলোর খোঁজ করতে গেলাম। সে পাত্তাই দিল না। আমি নাছোড়বান্দা হয়ে তার ঠিকানা চাইলাম। ছেলেটা ঠিকানার প্রথম লাইনটা বলতেই আমি থাকে থামিয়ে, আমার নোটবইটা দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলাম—“এটা কি আপনার ঠিকানা?” আমার ভ্যাগাবন্ড জীবনে রণর বিরাট গল্প আছে।

কাগজে কাজ করার সময়ে সাথে বিভিন্ন সময়ে ছিলেন পুলকদা, অমিতদা, সঞ্জীবদা, মিটুন ভাই, আমিন ভাই, আমান ভাই, অলোকদা, পিন্টুভাই, মুন্নী, মামুন, রমেনদা, হুমায়ুন রেজা, অনু, মাস্তানা ভাই, বেনজীর ভাই, মতিউর রহমান, নবনীতা, রঞ্জনা আপা, সুমী আপা, শুভ্রদা, শামীম ভাই প্রমুখ (সবার নাম বলা কঠিন হবে)। এদের সাথেই তখন আমার ঘনিষ্ঠতা। আমার বয়সী কেউ ছিল না, অনু, মামুন আর হুমায়ুন ছাড়া। কাগজেই আলাপ হল আজফার ভাইয়ের সাথে। ইনিও ফরহাদ-পন্থী মানুষ, ছফা-রাজ্জাক এক্সিসে বিশ্বাসী, দেরিদা-ফুকো-লাকাঁ নিয়ে ভাবিত। কায়মনে বাঙালী কবি সমাজে আজফার ভাইয়ের ইংরেজিয়ানা ছিল একটা মস্ত ব্যপার।

পরে এদের একটি অংশ ভোরের কাগজে রয়ে গেল বেনজীর ভাইয়ের সাথে, আরেকটি অংশ মতিউর রহমানের সাথে গিয়ে প্রতিষ্ঠা করল প্রথম আলো। সে কাগজে সাহিত্য সম্পাদক হলেন সাজ্জাদ ভাই, সাথে সহকারী হয়ে যোগ দিল রাইসু। এর মাঝে রাইসু বাংলাবাজার বলে আরেকটি কাগজে বেশ কিছুদিন সাহিত্য সম্পাদক ছিল। সেই সুবাদে আমার দু’টি বিজ্ঞান কল্পগল্পও ছেপেছিল।। এই কাগজেও সে আমার কয়েকখানা লেখা ছাপিয়ে ফেলল, তার মধ্যে একটি গল্পের চরিত্ররা ছিলো অনু, মামুন, রমেনদা আর শামীম ভাই। চমকপ্রদ এই যে, কাগজের কাজ ছেড়ে দেবার পর দ্রুতই সবাই আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেল।

কাগজে কাজ করার সময়ে রাইসু অনেকগুলো সাক্ষাৎকার নিয়েছিল বিভিন্ন গুনীজনের, অসাধারণ সব সাক্ষাৎকার, ভারি নতুন তার ধরন (মনে পড়ে দু’একটাতে সাজ্জাদ ভাইও রাইসুর সাথে ছিলেন)। দেখাদেখি আমিও কয়েকটা সাক্ষাৎকার নিয়ে ফেললাম। খুব খারাপ দাঁড়ায় নি বলেই ধারণা করি, যদিও বলাই বাহুল্য ওগুলো বলতে গেলে কেউ পড়ে নি।

সংবাপত্রে কাজ করতে করতেই আমি একসময়ে মাদকাসক্তি ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। মাদক সূত্রে জাহিদ (“তোমার ঘরে বাস করে কারা” গানের রচনাকারী), বিপ্লব (“কৃষ্ণ রাত আর রাধা জোছনা” গানের রচনাকারী), পথিক নবী (“নদীর জল ছিল না কূল ছিল না গানের রচনাকারী”), মৃণালদা, ফরিদ ভাই আর মিল্টনের সাথে সখ্য হল। পুরনো আলাপীদের মধ্যেও অনেকই ছিল। আশেপাশে তাজুলের উত্তরবঙ্গ গ্রুপ তো বটেই ছিলই (রোজী-মিতু-ফ্লোরা ইত্যাদি পাঁচবোন সহ), তার সাথে আরো কিছু পরে ছিল পাঠক সমাবেশের মালিক বিজু।

আমি তখন কবির ভান করা বন্ধ করেছি। রাইসু কিন্তু অব্যাহতভাবে কবি। দু’জনের দেখা-কথা কমতেই থাকল।

ক্রমে রাইসুর সাথে আমার যোগাযোগ কমে গেল। কেবল অলিয়ঁস ফ্রঁসেজ গেলে মাঝে মধ্যে দেখা হয়। ওখানেই রাইসুর বদৌলতে সলিমুল্লাহ খানের সাথে পরিচয়। রাইসু তখন মস্ত প্রেমকুমার বলে জানি, ক’দিন পর পর তার সাথে একটি নতুন মেয়ে দেখা যায়, তাদের অনেকেই নিতান্ত কমবয়েসী। আমি একটু বিরক্তই। রাইসু বোধহয় তখন একটু দাদাও হয়ে উঠেছে, সর্বদা দলবল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এককালে যেমন ঘুরে বেড়াত সাজ্জাদ ভাই, তার আগে তপনদা। রাইসুও ধারণা করি আমার ওপর তখন মহাবিরক্ত।

কালক্রমে রাইসু বিয়ে করল। গ্রিন রোড নাকি পান্থপথে বাসা নিল। সে বাসায় আমি একদিন গিয়েছিও। ততদিনে রাইসুর কবিতা আরো দুর্ধর্ষ হয়ে উঠেছে— “আমরা ছয় তলাতে ফ্ল্যাট/ আমরা ঘরের মধ্যে নদী/ আমরা নদীর মধ্যে বাউয়া ব্যাঙে/ করছি চোদাচুদি।”  আহা! কোনোদিন যদি রাইসুর নখাগ্রসমান কবিও হতে পারতাম!

তারপর রাইসুও অস্ট্রেলিয়া চলে গেল। শুনলাম রান্না করাটাই রাইসুর কাজ সেখানে, হাউজ হাজবেন্ড।

সকলই ফুরায়। আমারো ড্রাগযুগ ফুরলো। আবারো রাইসুর সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হল। এবার আন্তঃমহাদেশীয় যোগাযোগ। রাইসু অস্ট্রেলিয়াতে বসেই খুলল কবিসভা ইয়াহু গ্রুপ। সেখানে অনেক পুরনো বন্ধুর সাথে ফের কথা হল। তার সাথে নতুন বন্ধুত্ব গড়ে উঠল মানস, সৌম্য, লুনা আর সানিয়ার সাথে (আমার একটু সন্দেহ ছিল লুনা বোধহয় রাইসুর প্রেমে পড়েছে, সত্য মিথ্যা জানি না)। মানসের সঙ্গে আমার পরিচয় ঝগড়া করে। কী যেন একটা ফালতু ঝগড়া, কিন্তু মানস বুদ্ধিমান ছেলে, তাই শেষটায় তার সাথে বন্ধুত্বই হয়ে গেল। সৌম্য আর সুব্রত পরে আমার একমাত্র সম্পাদকে পরিণত হয়েছিল। আপাতত সেটাও ফুরিয়েছে।

এর মাঝে রাইসুর ডিভোর্স হয়ে গেল, সে ফিরে এল বাংলাদেশে। আরেক শীতকালে একদিন ফোনকল পেলাম—“চলেন দেখা করি।” দেখা হলো শ্যামলী সিনেমা হলের সামনে (হলটা এখন আর নেই)। হাঁটুজোকা হাফপ্যান্ট পরে লম্বা চুলে ঝুঁটি বেঁধে যে মানুষটা সহাস্যে আমার সাথে দেখা করল তার সাথে আমার প্রথম পরিচয়ের আনস্মার্ট রাইসুর কোনো সম্পর্ক নেই। আগের রাইসু যখন প্রথম আমার বাসায় এসেছিল আমার মা আতঙ্কের সাথে জানতে চেয়েছিলো ছেলেটা কে। এই রাইসুকে মা পছন্দই করে। কেবল হাসিটা হুবহু এক।

আমরা গেলাম উবিনীগ ভবনে, সেখানেই সারাদিন কাটালাম, খেলাম ঘুমালাম, রাইসু ইন্টারনেট চর্চাও করল, কবিসভার পোস্ট দেখতে দেখতে জিজ্ঞেস করল, “পূর্বা কি আপনাকে ডিস্টার্ব দিতেছে?” আমি বললাম, “না।” সবের মধ্যে খেলাম বড় ভাল, প্রবর্তনার খাঁটি জিনিস গরম গরম ঘরে রান্না করা। রাইসুর সাথে সেই শেষ সারাদিন কাটানো। আমি বিয়ে করলাম (টেঁকে নি), বিজ্ঞাপনী সংস্থায় চাকরি নিলাম (এখন অব্দি টিঁকেছে), ব্যস্ত হয়ে গেলাম অন্য দুনিয়ায়—যেখানে রাইসুও নেই, কবিতাও নেই, শীতের সন্ধ্যায় শাহবাগের মোড়ে গরম গরম হালিম আর সেদ্ধ হাঁসের ডিমও নেই।

জীবন আরো বদলেছে। এখন আমার একটি ছোট্ট মেয়ে আছে, সাথে মেয়ের মা আছে। পুরনো কারো সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। ফেসবুকও নেই। ফোনও ধরি না বললেই হয়। পদ্মর মায়ের কারণে সাজ্জাদ ভাইয়ের সাথে দেখা হয়েছিল মেলাদিন পর একটা বিয়ের আসরে। কেবল কোনো একটা অদ্ভূত ভাবে রাইসুর সাথে আমার ক্ষীণ হলেও ক্রমাগত যোগাযোগটা রয়েই গেছে। তার প্রশংসাটাও রাইসুরই।


*সঠিক পাঠ: ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে যাচ্ছে নক্ষত্রকুমারী / ফাঁকা বাসন্তী রাস্তায় / বৃক্ষে বৃক্ষে শুরু হয় কথোপকথন

৪ ডিসেম্বর ২০১৭

Facebook Comments
More from আদিত্য কবির

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *