রাইসু ভাই ও তার কাঁটাওলা স্যান্ডেল

সমসাময়িক কালে তিনি প্রভাবশালী সাহিত্যিকও বটে। উনার নিজস্ব দর্শন আছে। আছে বলার ভঙ্গি।

রাইসু ভাইয়ের লগে প্রথম পরিচয় সম্ভবত যায়যায়দিন এর লাভ রোডের অফিসে। উনি সাহিত্য জগতের লোক। তবে উনার সাহিত্য কর্মের সঙ্গে খুব বেশি জানাশোনা নাই কালিদাসের লগে মেগ দেখা ছাড়া। রাইসু ভাইয়ের সাহিত্যে কর্মের বাইরে যেই জিনিসটা আমারে বেশি আকর্ষণ করছে সেইটা হইল কাঁটাওলা এক জোড়া স্যান্ডেল। উনি একটা থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট (সম্ভবত ফুল প্যান্টকে কাইট্টা ছোট করা) আর ওই কাঁটাওলা স্যান্ডেল পইরা লাভ রোডের অফিসে আসতেন।

আমি মনে মনে অনেকবার চিন্তা করছি কোনো কারণে যদি উনি কখনও এই স্যান্ডেল রাইখা খালি পায়ে অফিসে হাঁটাহাঁটি করেন তাইলে আমি ওগুলা চুরি করমু।

মারুফ মল্লিক

এই চিন্তাটা আমার মাথায় আসে বিডিনিউজের ধানমণ্ডির অফিসে। কিন্তু সেই সুযোগ আর আসে নাই। বিভিন্ন সময় জানতে চাইতাম এই স্যান্ডেল কইত্থে কিনলেন? আসল উদ্দেশ্য ছিল ওই কাঁটাওলা স্যান্ডেল দেখা।

কাঁটাওলা স্যান্ডেল, থ্রি কোয়ার্টার, হাত গুটানো শার্ট, এলোমেলো লম্বা চুল—ঠিক আমাদের প্রথাগত অফিসের পোশাকের সঙ্গে যায় না। তো তার এই আজিব বা ব্যতিক্রমধর্মী বেশভূষা ও সাহিত্য কর্মের কারণে অনেকেই তারে প্রথাবিরোধী মনে করেন। আমি কিন্তু তা মনে করি না।

বরং আমার মনে হয় উনি আমাদের নিজস্ব প্রথায় ফিরত গেছেন। বেসিক্যালি ভাষার মাধ্যমে। উনি কলিকাতার বাবুদের প্রমিত ভাষায় সাহিত্য রচনা না কইরা আমাদের যে নিজস্ব ভাষা, মুখের কথা সেই, যে ভাষায় এই বঙ্গে আদি সাহিত্য রচিত হইছে ঠিক সেই প্রথায় ফিরত গেছেন। এইটা বাংলা সাহিত্যের বর্তমান কালে বিশাল বড় একটা ব্রেকথ্রু।

অনেকেই বলার চেষ্টা করেন ব্রাত্য রাইসু এইসব আউলা-ঝাউলা কাম না কইরা তাদের ভাষায় সিরিয়াস সাহিত্য (মানে প্রমিত সাহিত্য) রচনায় মনোযোগ দিলে ভাল করতেন।

না, এইটা ঠিক না। বস্তুত উনারা রাইসু ভাইয়ের দর্শনটা ঠিকমত ধরতে পারেন নাই। উনি যা করতাছেন এইটা দিয়াই বাংলা সাহিত্যে টিকে যাবে তার নিজস্ব দর্শন ও চিন্তা।

সমসাময়িক কালে তিনি প্রভাবশালী সাহিত্যিকও বটে। উনার নিজস্ব দর্শন আছে। আছে বলার ভঙ্গি। সেইখান থেকে তিনি ব্যতিক্রম। রাইসু ভাই নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে না থাইকা বের হয়ে আসার চেষ্টা করছেন।

মূল বিষয় হইতেছে, আপনি আরোপিত কাঠামোর মধ্যে থাইকা কাজ করলে আপনেরে কেউ মনেও রাখব না, কিন্তু আপনে যদি আরোপিত কাঠামোর বাইরে আইসা বা ভাইঙ্গা দিয়া মূলে ফিরত যান অথবা নতুন কোনো ধারা সৃষ্টি  করেন তাইলেই সবাই মনে রাখবে ও কর্ম টিকা থাকবে।

আমার মনে হয় রাইসু ভাই সেই কাজটাই করছেন।

Facebook Comments
More from মারুফ মল্লিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *